খাবারসংক্রান্ত মানসিক রোগ বলতে শুধু কম বা বেশি খাওয়ার সমস্যাই বোঝায় না। এসব রোগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শরীরের ওজন, খাবার এবং নিজের চেহারা নিয়ে অতিরিক্ত ভয়, লজ্জা ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও ভেতরে ভেতরে এসব সমস্যা মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব রোগ থেকে সেরে উঠতে চিকিৎসক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা প্রয়োজন হয়।
অ্যানোরেক্সিয়া নারভোসা:
এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ইচ্ছাকৃতভাবে খুব কম খান বা খাবার এড়িয়ে চলেন। ওজন বেড়ে যাওয়ার তীব্র ভয় এবং নিজের শরীরকে বাস্তবের তুলনায় বেশি মোটা মনে করা এর প্রধান লক্ষণ। দীর্ঘদিন এ সমস্যায় ভুগলে হাড় দুর্বল হওয়া, হরমোনের সমস্যা, হৃদযন্ত্রের জটিলতা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও দেখা দিতে পারে।
বুলিমিয়া নারভোসা:
অল্প সময়ে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার পর ওজন বাড়ার ভয় থেকে বমি করা, উপবাস থাকা বা অতিরিক্ত ব্যায়াম করা এই রোগের বৈশিষ্ট্য। এর ফলে দাঁতের ক্ষয়, গলা ব্যথা, পানিশূন্যতা এবং হৃদযন্ত্রের মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিঞ্জ ইটিং ডিসঅর্ডার (BED):
এই সমস্যায় ক্ষুধা না থাকলেও দ্রুত ও অনেক খাবার খাওয়া হয়। খাবার শেষে লজ্জা ও অপরাধবোধ কাজ করে। বুলিমিয়ার মতো খাবার বের করে দেওয়ার আচরণ না থাকলেও ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
পাইকা (Pica):
এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা খাবার নয় এমন জিনিস—যেমন মাটি, চুন, কাগজ বা সাবান—খাওয়ার প্রবণতা দেখান। এতে বিষক্রিয়া, সংক্রমণ ও অপুষ্টির ঝুঁকি থাকে।
রিউমিনেশন ডিসঅর্ডার:
খাবার খাওয়ার কিছু সময় পর তা আবার মুখে তুলে চিবিয়ে গিলে ফেলা বা ফেলে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। চিকিৎসা না হলে ওজন কমে যাওয়া ও অপুষ্টি হতে পারে।
এআরএফআইডি (ARFID):
এই রোগে খাবারের গন্ধ, স্বাদ বা গঠনের প্রতি তীব্র বিরক্তির কারণে পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। ফলে ওজন কমে যাওয়া ও বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, খাবারসংক্রান্ত মানসিক রোগগুলো শুধু খাওয়ার অভ্যাসের সমস্যা নয়; এগুলো গভীর মানসিক ও শারীরিক জটিলতার সঙ্গে যুক্ত। কারও মধ্যে এসব লক্ষণ দেখা গেলে দেরি না করে চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।











