শীতের বিদায়ের পর বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশে মশার উপদ্রব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে জেলা-উপজেলা শহরেও মশার দাপটে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার এই পরিস্থিতির তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:
১. স্থানীয় সরকার প্রশাসনের অচল অবস্থা:
অধ্যাপক বাশারের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ভঙ্গুর ছিল। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ প্রশাসনের কাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়ায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজও কার্যকর হয়নি। ফলে জনবহুল শহরগুলোতে মশার বংশবৃদ্ধি বেড়েছে।
২. জমে থাকা পানি ও আবহাওয়ার প্রভাব:
দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় ড্রেন, ডোবা, নর্দমার পানি স্থির হয়ে পচে গেছে। বসন্তের আগমনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই স্থির পানি কিউলেক্স মশার বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে। অধ্যাপক বাশারের মতে, সঠিক সময়ে পানি পরিষ্কার করলে মশার প্রজনন কমে যেত।
৩. মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব:
বাংলাদেশে মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য ফগিং বা ধোঁয়ার ব্যবহার প্রচলিত হলেও তা কার্যকর সমাধান নয়। বাশারের মতে, এটি কেবল নাগরিকদের মন শান্ত করার জন্য করা হয়; প্রকৃত নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অধ্যাপক বাশার জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের মশার প্রজাতির মধ্যে প্রায় ৯২% কিউলেক্স মশা, যা স্থির পানিতে জন্মে। তিনি সতর্ক করেছেন, মশার বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিকদের আরও সক্রিয় হতে হবে।











