হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বরিশালে দুইজন, ময়মনসিংহে একজন এবং সিলেটে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টাতেও একই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। ফলে বিভাগে হামের উপসর্গ বা শনাক্ত হওয়ার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৬৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। আজ দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১০ জনে। চলতি বছরে বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ হাজার ১৯০ জন শিশু, যার মধ্যে ৫৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, মার্চের শুরু থেকে বরগুনায় সংক্রমণ বেশি ছিল। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে পটুয়াখালী জেলায় সংক্রমণের হার বাড়ছে। আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ময়মনসিংহে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল্লাহ (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২ এপ্রিল তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকেরা জানান, হামের উপসর্গের পাশাপাশি শিশুটি আরও কিছু শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ২০ শিশু আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। গত ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৪৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২৬২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে, মারা গেছে ১০ শিশু এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭২ শিশু।
অন্যদিকে সিলেটে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিব্য (৭ মাস) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হলো।
হাসপাতালের উপপরিচালক মাহবুবুল আলম জানান, শিশুটিকে দুই-তিন দিন আগে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল থেকে ওসমানী মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়েছিল। হামের উপসর্গের পাশাপাশি শিশুটি নিউমোনিয়া ও হৃদ্যন্ত্রের জটিলতায় ভুগছিল। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, তবে ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে একজনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৪২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১০৩ জন।











