অ্যালার্ম ঘড়ির ‘স্নুজ’ বোতামটি সকালের ঘুমের জন্য অনেকের প্রিয়। তবে কয়েক মিনিটের বাড়তি ঘুম দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
কারণ:
আমাদের ঘুম কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। যখন আপনি প্রথমবার অ্যালার্ম শুনেও আবার ঘুমিয়ে পড়েন, তখন মস্তিষ্ক ঘুমের একটি নতুন চক্র শুরু করে। তবে কয়েক মিনিট পর আবার অ্যালার্ম বাজলে সেই চক্র মাঝপথেই ভেঙে যায়।
ফলাফল:
১। সারাদিন ক্লান্তি: মাঝপথে ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণে মেজাজ খিটখিটে হয় এবং শরীরে ক্লান্তি থাকে।
২। শরীরের ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম নষ্ট হওয়া: বারবার ঘুমানো ও জাগার ফলে প্রাকৃতিক ঘড়ি বিভ্রান্ত হয়, ফলে রাতের ঘুমের মান কমে যায়।
৩। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া: পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম না হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়।
সকালে ঘুম থেকে ওঠা কঠিন হওয়ার কারণ:
১। দেরিতে ঘুমানো: রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সকালে শরীর আরও ঘুম চাইবে।
২। ব্যায়ামের অভাব: অলস জীবনযাপন করলে ঘুমের গভীরতা কমে যায়।
৩। শোবার ঘরের পরিবেশ: খুব গরম বা শব্দবহুল ঘর ঘুমের মান খারাপ করে।
সমাধান ও টিপস:
-
অ্যালার্ম ঘড়ি দূরে রাখুন: ঘর থেকে দূরে রাখলে সেটি বন্ধ করতে উঠে দাঁড়াতে হবে।
-
নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ওঠা অভ্যাস করুন।
-
দিনের আলো লাগানো: ঘুম থেকে উঠে জানালার পর্দা খুলে দিন, সূর্যের আলো মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে।
-
দ্রুত বিছানা ছাড়ুন: ঘুম ভাঙার পর শুয়ে না থেকে সোজা উঠে পড়ুন।
মনে রাখুন, অ্যালার্ম ছাড়া নিজে নিজেই ঘুম থেকে ওঠা সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। এটি শরীরকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখে।











