বাসে উঠলেই বুক ধড়ফড়, গা গুলিয়ে ওঠা, মাথা ঝিমঝিম আর মনে মনে একটাই ভয়—এই বুঝি বমি চলে আসবে! এমন অভিজ্ঞতা বহু মানুষের কাছেই পরিচিত।
কেউ কেউ এই সমস্যার কারণে বাসযাত্রা এড়িয়ে চলেন, আবার দীর্ঘ ভ্রমণের কথা ভাবলেই আগেভাগে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। অনেকে বিষয়টি নিয়ে লজ্জাও পান, কিন্তু বাস্তবে মোশন সিকনেস একটি খুবই সাধারণ শারীরিক সমস্যা।
মোশন সিকনেস হলে শুধু বমি নয়, এর সঙ্গে মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, গা গোলানো ও অস্বস্তিও যোগ হয়। বাস, গাড়ি, ট্রেন বা নৌযানে চলার সময় শরীরের ভারসাম্য-সংক্রান্ত সংকেত ও চোখের দেখা দৃশ্যের মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হলে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। তখনই দেখা দেয় এই বমি বমি ভাব ও অসুস্থতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাস ও খাবারদাবারের মাধ্যমে মোশন সিকনেসের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
মোশন সিকনেস কেন হয়?
আমাদের শরীরের ভেতরের কানের ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশ, চোখ ও স্নায়ুতন্ত্র—এই তিনটি একসঙ্গে মিলে মস্তিষ্ককে জানায় আমরা স্থির না চলমান। কিন্তু বাসে বসে থাকা অবস্থায় চোখ যখন স্থির পরিবেশ দেখে, আর শরীর যখন নড়াচড়া অনুভব করে—তখন মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়। এই বিভ্রান্তির ফলেই বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা ও বমি দেখা দেয়।
কীভাবে কমাবেন এই সমস্যা?
পুষ্টিবিদ পূজা মাখিজা মোশন সিকনেস কমানোর জন্য কয়েকটি কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন—
-
পেট ভরে খাবেন না: যাত্রার আগে ভারী ও মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। হালকা খাবার খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
-
পেপারমিন্ট বা আদা: পেপারমিন্ট, মুখশুদ্ধি কিংবা আদা বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে।
-
চুইংগাম চিবান: অনেকের ক্ষেত্রে যাত্রাপথে চুইংগাম চিবালে আরাম পাওয়া যায়।
-
লিকোরিস রুট (মুলেথি): চিকিৎসকের পরামর্শে যাত্রার আগে নির্দিষ্ট মাত্রায় লিকোরিস রুট গ্রহণ করা যেতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, যেকোনো ধরনের ভেষজ উপাদান বা ওষুধ গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সবশেষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—মোশন সিকনেসের সঙ্গে মানসিক দুশ্চিন্তারও সম্পর্ক আছে। বাসে উঠেই যদি মনে করেন, ‘এবার বমি হবেই’, তাহলে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই চেষ্টা করুন মন হালকা রাখতে, গান শুনতে বা জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকতে। অনেক সময় ইতিবাচক মনোভাবই এই সমস্যাকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।











