তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এইচআইভি (হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস) সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে এ বিষয়ে জরুরি সতর্কতা জারি থাকায় জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বসুন্ধরা শুভসংঘ আনন্দ মোহন কলেজ শাখার উদ্যোগে একটি সচেতনতামূলক গণসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি, প্রকৃত কারণ, প্রতিরোধের উপায় এবং সচেতন আচরণের গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। একই সঙ্গে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ আনন্দ মোহন কলেজ শাখার সভাপতি নাফিউল হাসান মুবিন। তার নেতৃত্বে সংগঠনের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান আকাশসহ সদস্যরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক পূজা চক্রবর্তী লাবণ্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানজিদা হকসহ অন্যান্য সদস্যরা।
সভাপতি নাফিউল হাসান মুবিন বলেন, ‘সচেতনতার অভাব ও ভুল ধারণার কারণেই তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। এখনো অনেকে মনে করেন স্পর্শ, একসঙ্গে খাওয়া, করমর্দন বা একই টয়লেট ব্যবহারে এইচআইভি ছড়ায়—যা সম্পূর্ণ ভুল।’ তিনি বলেন, এসব ভ্রান্ত ধারণার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সামাজিকভাবে অবহেলিত হন এবং চিকিৎসা নিতে ভয় পান, অথচ এইচআইভি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়।
তিনি আরও বলেন, সঠিক তথ্য জানা ও সচেতন জীবনযাপনই এই সংক্রমণ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এখনই তরুণ সমাজ সচেতন না হলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ প্রভাব সমাজকে বহন করতে হবে।
এ সময় সাধারণ সম্পাদক পূজা চক্রবর্তী লাবণ্য বলেন, অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক, সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ বা ইনজেকশন ব্যবহার, সংক্রমিত মায়ের গর্ভে বা প্রসবের সময় এবং বুকের দুধের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়াতে পারে। প্রতিরোধের জন্য তিনি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল জীবনযাপন, রক্ত গ্রহণের আগে পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং এইচআইভি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন।
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিয়মিত এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে একটি সুস্থ, মানবিক ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।











