অনেকেরই হাই কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগসহ নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে। কোলেস্টেরল মূলত একটি মোমজাতীয় পদার্থ, যা রক্তনালীতে জমে গিয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
তাই সুস্থ জীবনযাপনের জন্য কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই কোলেস্টেরল অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
প্রথমেই ফাস্ট ফুড ও ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। এসব খাবারে ট্রান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বাড়ায়। একই সঙ্গে ঘি, মাখন ও অতিরিক্ত তেল ব্যবহার এড়িয়ে চলা ভালো। রেড মিট বা গরু-খাসির মাংস কম খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ এতে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট কোলেস্টেরল বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
মাছ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত মাছের তেল বা মাছের ডিম কিছুদিনের জন্য এড়িয়ে চলতে পারেন, বিশেষ করে যদি কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। এর পরিবর্তে হালকা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়াই ভালো।
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাক, সবজি ও ফল রাখা অত্যন্ত জরুরি। এসব খাবারে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণ কমিয়ে দেয় এবং শরীর থেকে তা বের করে দিতে সাহায্য করে। ফলে রক্তে কোলেস্টেরল জমার ঝুঁকি কমে যায়।
নিয়মিত ব্যায়াম কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের আরেকটি কার্যকর উপায়। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো, সাইক্লিং বা হালকা ব্যায়াম করলে খারাপ কোলেস্টেরল কমে এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়ে। তাই দৈনন্দিন জীবনে ব্যায়ামকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
সবশেষে, চিকিৎসকের পরামর্শে যদি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধ সেবন করেন, তাহলে তা নিজে নিজে বন্ধ করবেন না। নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন একসঙ্গে চললে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়।
এই সহজ টিপসগুলো মেনে চললে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং সুস্থ, কর্মক্ষম জীবনযাপন নিশ্চিত করা যায়।











