কোলন ক্যানসার হলো বৃহদান্ত্রের ক্যানসার। একসময় এই রোগটি মূলত মধ্যবয়সী ও বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে তরুণদের মধ্যেও এর হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সমস্যার বড় দিক হলো—শুরুর দিকে এই ক্যানসারে অনেক সময় তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।
তবে সময়ের সঙ্গে পেটে ব্যথা, বদহজম, রক্তমিশ্রিত বা পাতলা পায়খানা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া—এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু জীবনযাপনের অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। নিচে কোলন ক্যানসার নিয়ন্ত্রণের পাঁচটি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো—
১. অ্যালকোহল সেবন পরিহার
মদ্যপান অন্তত সাত ধরনের ক্যানসারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত, যার মধ্যে কোলন ক্যানসার অন্যতম। দীর্ঘদিন অ্যালকোহল গ্রহণ করলে এই ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই অ্যালকোহল পুরোপুরি পরিহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
২. ধূমপান বন্ধ করা
তামাক ব্যবহার বিশ্বব্যাপী ক্যানসারজনিত মৃত্যুর একটি বড় কারণ। দীর্ঘদিন ধূমপান করলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি ও মৃত্যুঝুঁকি দুটোই বাড়ে। ধূমপান ত্যাগ এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিং গ্রহণ এই ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
৩. অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ
স্থূলতা শুধু শারীরিক সমস্যাই নয়, এটি ক্যানসারের অন্যতম বড় ঝুঁকির কারণ। অতিরিক্ত ওজন শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এবং কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটায়। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
৪. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা
লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংস দীর্ঘদিন বেশি খেলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। উচ্চ তাপে ভাজা বা গ্রিল করা খাবারও ক্ষতিকর। এ ক্ষেত্রে বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা এবং লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস সীমিত করা উচিত।
৫. সক্রিয় জীবনযাপন
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা কোলন ক্যানসারের বড় ঝুঁকির কারণ। নিয়মিত ব্যায়াম করলে এই ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো বা হালকা থেকে মাঝারি ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই পারে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এবং সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে।











