দাঁতের এনামেল একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আর আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। এনামেল দাঁতের সবচেয়ে শক্ত স্তর হলেও কিছু খাবার ও পানীয় নিয়মিত গ্রহণ করলে ধীরে ধীরে এটি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে দাঁতে ব্যথা, সংবেদনশীলতা ও ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে। তাই দাঁত সুস্থ রাখতে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা বা সীমিত করা উচিত, তা জানা জরুরি।
১. বেশি টক ফল ও ফলের রস
লেবু, কমলা, মাল্টা, আনারস, তেঁতুলসহ টক ফলে অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকে। এসব ফল বা ফলের রস নিয়মিত খেলে দাঁতের এনামেল ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে পারে।
২. সফট ড্রিংক ও এনার্জি ড্রিংক
কোলা, সোডা ও এনার্জি ড্রিংকে একসঙ্গে অ্যাসিড ও চিনি থাকে। এই দুই উপাদান দাঁতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং এনামেল দ্রুত দুর্বল করে দেয়।
৩. অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনি জাতীয় খাবার
চকলেট, টফি, ক্যারামেল ও ক্যান্ডির মতো খাবার দাঁতে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়। ব্যাকটেরিয়া চিনি ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে, যা এনামেল ক্ষয়ের অন্যতম কারণ।
৪. প্যাকেটজাত ফলের জুস
নামের সঙ্গে ফল থাকলেও বাজারজাত প্যাকেটজাত জুসে সাধারণত অতিরিক্ত চিনি ও অ্যাসিড মেশানো থাকে। নিয়মিত এসব জুস পান করলে দাঁতের ক্ষতির ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
৫. ভিনেগারযুক্ত খাবার
আচার, সালাদ ড্রেসিং ও কিছু ফাস্টফুডে ব্যবহৃত ভিনেগার দাঁতের এনামেলের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে।
৬. অতিরিক্ত চা ও কফি
বেশি চা বা কফি পান করলে দাঁতের এনামেল দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং দাঁতে কালচে দাগ পড়ার আশঙ্কা থাকে।
৭. অ্যালকোহল
অ্যালকোহল মুখ শুষ্ক করে দেয়। এতে লালার পরিমাণ কমে যায়, ফলে দাঁতের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে।
দাঁত রক্ষায় জরুরি পরামর্শ
টক বা মিষ্টি খাবার খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ না করে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। খাবারের পর মুখে ভালো করে পানি দিয়ে কুলি করুন এবং নিয়মিত ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করুন। সচেতন খাবার নির্বাচন ও সঠিক অভ্যাসই দাঁতের এনামেল সুস্থ রাখার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।











