শীতের মৌসুমে বাজারে গেলে চোখ জুড়িয়ে যায় নানা রঙের ফলে। তবে পুষ্টিগুণের দিক থেকে কমলা লেবু, জলপাই ও আমলকীর জুড়ি মেলা দায়। শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই তিনটি ফল রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। প্রতিটি ফলের রয়েছে আলাদা আলাদা উপকারিতা।
কমলা লেবু:
কমলা লেবু শুধু স্বাদে অনন্য নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর। এতে থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন-সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সর্দি-কাশি ও ফ্লু থেকে রক্ষা করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বক রাখে উজ্জ্বল ও সতেজ। এ ছাড়া এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং নিয়মিত কমলা খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। টক স্বাদের কমলা শরীরের নতুন করে জমতে থাকা চর্বি কমাতেও সহায়তা করে।
জলপাই:
শীতের শুরু থেকেই বাজারে পাওয়া যায় জলপাই। টক স্বাদের এই ফলটি আচার, তরকারি ও ডালে বেশ জনপ্রিয়। জলপাইয়ে রয়েছে ভিটামিন-ই, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও বিভিন্ন মিনারেল। এতে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত করে, ফিনোলিক যৌগ ক্যান্সার কোষ গঠনে বাধা দেয়। কালো জলপাইয়ের তেল ত্বক ও চুলের যত্নে কার্যকর, চুলের গোড়া মজবুত করে চুল পড়া কমায়। পাশাপাশি এতে থাকা লৌহ রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে এবং ভিটামিন-এ চোখের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আমলকী:
আমলকী পুষ্টিগুণের দিক থেকে একটি শক্তিশালী ফল। বলা হয়, একটি আমলকীতে প্রায় ২০টি কমলার সমান ভিটামিন-সি রয়েছে। এটি চুলের গোড়া শক্ত করে, অকালে চুল পাকা রোধ করে এবং হজম শক্তি বাড়ায়। আমলকী লিভারের কার্যক্ষমতা উন্নত করে ও রক্ত থেকে টক্সিন দূর করে শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখে। মধুর সঙ্গে আমলকীর রস দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে এবং চোখের নানা সমস্যা কমায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি বয়সের ছাপ পড়তেও বাধা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলগুলো কাঁচা অবস্থায় খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। রান্না বা অতিরিক্ত তাপে ভিটামিন-সি-এর গুণাগুণ কিছুটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।











