আজকের দিনের বহু মূল্যবান সুপারফুড বা রান্নার অপরিহার্য উপাদান রসুন একসময় ছিল অবহেলিত। হাজার বছরের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, আভিজাত্যের লড়াইয়ে রসুনকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ পথ। কখনো এটি ছিল নিম্নবিত্ত বা দাসদের খাবার, আবার কখনো তা স্থান করে নিয়েছে খোদ রাজার থালায়।
প্রাচীন মেসোপটেমিয়া, মিসর ও রোমে রসুনের কদর থাকলেও তা মূলত নিম্নবিত্তদের জন্য। ইতিহাসবিদ রবিন চেরি জানান, মিসরে যারা পিরামিড তৈরি করত, তাদের নিয়মিত রসুন খাওয়ানো হতো। রোমান নাবিকদের খাবারের তালিকাতেও রসুন ছিল বাধ্যতামূলক।
কারণ দুটি প্রধান ছিল:
১. রসুন ছিল সস্তা এবং শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রমের শক্তি জোগাত।
২. তখনকার দিনে নিম্নমানের বা বাসি খাবারের গন্ধ ঢাকতে রসুন ব্যবহার করা হতো।
এ কারণেই উচ্চবিত্তরা রসুনকে দরিদ্রদের খাবার হিসেবে গণ্য করত এবং তার তীব্র গন্ধ এড়াত।
রেনেসাঁ যুগে (১৪-১৬ শতক) রসুনের দুর্নাম ঘুচতে শুরু করে। ফ্রান্সের রাজা চতুর্থ হেনরি রসুন খেতে ভালোবাসতেন। রাজার পছন্দের তালিকায় আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে রসুনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে শুরু করে। রোমান সৈন্যরাও বিশ্বাস করত, রসুন সাহস ও শক্তি বৃদ্ধি করে এবং তারা যুদ্ধজয়ের সঙ্গে এটি ছড়িয়ে দেয়।
ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের অভিজাত মহলেও রসুনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটাস ও চিন্তাবিদ অ্যারিস্টটলও রসুনের ঔষধি গুণ প্রচার করেছেন।
আজ তুতেনখামেনের সমাধি থেকে আধুনিক শেফদের রান্নাঘর—সর্বত্রই রসুন নিজের স্থান করে নিয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে ৬০০-এর বেশি প্রজাতির রসুন পাওয়া যায়। এক সময় অবহেলিত রসুন আজ আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। দাসদের শক্তি জোগানো সেই সাধারণ উপাদানই আজ বিশ্বের প্রিমিয়াম ডাইনিং টেবিলের প্রধান অংশ।











