রোজার দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে অনেকেই দ্রুত শক্তি ও পুষ্টি পেতে ডিম বা ডিমের তৈরি বিভিন্ন পদ খেয়ে থাকেন। ডিম প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি খাবার, যা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগাতে সহায়তা করে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতারে খালি পেটে ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানা জরুরি।
পুষ্টিবিদদের মতে, খালি পেটে ডিম খাওয়া তখনই স্বাস্থ্যকর হবে যখন সেটি সম্পূর্ণ সিদ্ধ করা হয়। ভালোভাবে সিদ্ধ ডিম সহজপাচ্য এবং এতে উপস্থিত উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর শরীরের ক্লান্তি দূর করতেও এটি সহায়ক। সিদ্ধ ডিম দিয়ে সালাদ, হালকা মসলা দিয়ে রান্না করা ডিম কিংবা সেদ্ধ ডিম সরাসরি খাওয়া—এসবই তুলনামূলক নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইফতারে খালি পেটে হাফ বয়েল বা আধাসিদ্ধ ডিম, ডিম পোচ কিংবা অতিরিক্ত তেলে ভাজা অমলেট এড়িয়ে চলা উচিত। আধাসিদ্ধ বা কম রান্না করা ডিমে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। দীর্ঘ সময় খালি থাকার পর পাকস্থলী সংবেদনশীল থাকে, ফলে এ ধরনের খাবার খেলে পেটে অস্বস্তি, গ্যাস্ট্রিক, প্রদাহ বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া ভাজাপোড়া ডিম অতিরিক্ত তেলযুক্ত হওয়ায় হজমে চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ইফতারে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার দিয়ে শুরু করাই উত্তম। খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করে কিছু সময় পর সিদ্ধ ডিম খেলে শরীর ধীরে ধীরে শক্তি ফিরে পায় এবং হজমতন্ত্রও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ইফতারে ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যকর হতে পারে—তবে সেটি অবশ্যই ভালোভাবে সিদ্ধ এবং পরিমিত পরিমাণে হওয়া উচিত। সঠিক পদ্ধতিতে খেলে ডিম হতে পারে রোজার সময় পুষ্টির একটি উৎকৃষ্ট উৎস।











