ঝিনাইদহে অসহায় ও অবহেলিত মায়েদের মুখে হাসি ফোটাতে দিনব্যাপী মানবিক কর্মসূচি পালন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। জেলার জোড়াপুকুরিয়া বৃদ্ধাশ্রম ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এই কর্মসূচির আয়োজন করে সংগঠনটির ঝিনাইদহ জেলা শাখা।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসরত মায়েদের সঙ্গে সময় কাটান, তাঁদের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন এবং স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলায় থাকা এসব মায়ের সঙ্গে গল্প করা, পাশে বসে কথা বলা এবং স্নেহের পরশ দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
এ সময় মায়েদের জন্য একবেলা পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়। খাবার পরিবেশন থেকে শুরু করে একসঙ্গে বসে খাওয়া—সবকিছুতেই ছিল আন্তরিকতা ও ভালোবাসার ছোঁয়া। অনেক মা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের খোঁজ নিতে কেউ আসে না। শুভসংঘের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁরা অনুভব করেছেন, তাঁরা একা নন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ঝিনাইদহ জেলা শাখার সহসভাপতি সহকারী অধ্যাপক মো. শাহানুর আলম, সহকারী অধ্যাপক কে এম সালেহ, সরস্বতী সাহা, সাধারণ সম্পাদক কেয়া রাণী প্রামানিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শোভন সাহা সবুজ এবং কার্যকরী সদস্য অনুপম বিশ্বাসসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা জানান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের মূল লক্ষ্য। বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের সঙ্গে কাটানো এই সময় তাঁদের নিজেদের জন্যও ছিল এক আবেগঘন অভিজ্ঞতা।
জোড়াপুকুরিয়া বৃদ্ধাশ্রম ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইসমত আরা বলেন, এখানে বসবাসরত সবাই কোনো না কোনোভাবে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। তাঁদের সবচেয়ে বড় অভাব অর্থ নয়, ভালোবাসা। শুভসংঘের সদস্যরা যে সময় ও আন্তরিকতা নিয়ে এসেছেন, সেটাই এই মায়েদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।











