রমজান মাসে ইফতারের টেবিলে খেজুর যেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর খেজুর খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরে শক্তির ঘাটতি, রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হয়। খেজুর এই তিনটি ক্ষেত্রেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রথমত, খেজুর শরীরে দ্রুত শক্তি জোগান দেয়। দীর্ঘ সময় উপবাসে থাকার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়, যা দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অবসাদ সৃষ্টি করতে পারে। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা—গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ—দ্রুত রক্তে মিশে শক্তির ঘাটতি পূরণ করে। একই সঙ্গে এতে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে, ফলে হঠাৎ করে রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
দ্বিতীয়ত, খেজুর পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি ফল। এতে রয়েছে ভিটামিন বি৬, ভিটামিন এ ও ভিটামিন কে। এসব ভিটামিন শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে, দৃষ্টিশক্তি ও ত্বকের সুস্থতায় এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খেজুরে থাকা আয়রন রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সহায়ক। বিশেষ করে যারা রোজায় দুর্বলতা অনুভব করেন, তাদের জন্য আয়রনসমৃদ্ধ খাবার উপকারী হতে পারে। এছাড়া পটাসিয়াম হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
তৃতীয়ত, পানিশূন্যতা রোধে খেজুর ভূমিকা রাখে। অনেকে মনে করেন শুকনো ফল খেলে পানিশূন্যতা বাড়ে, তবে খেজুরের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। এতে থাকা পটাসিয়াম দেহকোষে তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। ইফতারের সময় পানি বা দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে শরীর দ্রুত চাঙা হয় এবং ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা পায়।
এছাড়া খেজুরে রয়েছে খাদ্যআঁশ, যা দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর হজম প্রক্রিয়াকে ধীরে ও স্বাভাবিকভাবে চালু করতে সহায়তা করে। সরাসরি ভারী বা তৈলাক্ত খাবার খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে, কিন্তু খেজুর পাকস্থলীকে প্রস্তুত করে পরবর্তী খাবার গ্রহণের জন্য।
পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতারে এক থেকে তিনটি খেজুর দিয়ে শুরু করা উত্তম। এরপর ধীরে ধীরে পানি, ফল বা হালকা খাবার খেলে শরীরের ওপর চাপ কম পড়ে। সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখে খেজুর খেলে রোজার সময় শক্তি, পুষ্টি ও সুস্থতা বজায় রাখা সহজ হয়।











