প্রযুক্তি আজ মানুষের জীবনযাপন সহজ করে দিয়েছে। খুব অল্প বয়সেই শিশুরা নানা ধরনের গ্যাজেট ব্যবহার করতে শিখে যায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা এসব করে মা–বাবার নিরাপদ ছায়াতলে থেকে। কিন্তু হঠাৎ যদি কোনো বিপদে পড়ে বা একা চলার প্রয়োজন হয়, তখন শিশুটি কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে—এই প্রশ্ন থেকেই আসে জীবনদক্ষতা শেখানোর প্রয়োজনীয়তা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর বয়স ১০ বছর হওয়ার আগেই কিছু মৌলিক জীবনদক্ষতা শেখানো জরুরি। জীবনচলার পথ শিশুর জন্য আগেভাগে প্রস্তুত করে রাখা সম্ভব নয়, বরং শিশুকেই প্রস্তুত করে তুলতে হবে। এসব দক্ষতা শিশুর জীবনকে যেমন সহজ করে, তেমনি মা–বাবাকেও মানসিকভাবে নিশ্চিন্ত রাখে। যেহেতু এসব শিক্ষা সাধারণত প্রথাগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয় না, তাই এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হয় অভিভাবকদেরই।
আত্মরক্ষার প্রাথমিক শিক্ষা:
শিশুকে আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর আগে তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে হবে। যে কোনো পরিস্থিতিতে মনোবল ধরে রাখার গুরুত্ব বোঝাতে হবে। আক্রমণের সময় হাঁটু, চোখ, কান বা নাকের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় আঘাত করে দ্রুত সরে যাওয়ার কৌশল শেখানো যেতে পারে।
মানচিত্র ও দিক চেনা:
ছোটবেলা থেকেই মানচিত্র ও দিক চেনানোর অভ্যাস গড়ে তুললে শিশু পথ হারালেও নিজেকে সামলাতে পারে। ঘরের দেয়ালে মানচিত্র টাঙানো বা গ্লোব ব্যবহার করে দিক চিনতে শেখানো কার্যকর।
ঠিকানা ও ফোন নম্বর মুখস্থ:
শিশু কথা বলতে শেখার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে বাড়ির ঠিকানা এবং মা–বাবার ফোন নম্বর শেখানো জরুরি, যাতে বিপদে পড়লে সে পরিচয় জানাতে পারে।
বিপদের বন্ধু চেনা:
পুলিশ, র্যাব বা সেনাবাহিনীর পোশাক চিনতে শেখান। ভিড়ে হারিয়ে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে সাহায্য চাইতে যেন সে দ্বিধা না করে।
‘না’ বলতে শেখানো:
শিশুকে ছোটবেলা থেকেই ‘না’ বলতে শেখাতে হবে, যাতে সে চাপের মুখে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়।
প্রাথমিক চিকিৎসা:
কাটা-ছেঁড়া হলে অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার, ব্যান্ডেজ বাঁধা এবং কখন বড়দের সাহায্য নিতে হবে—এসব শেখানো জরুরি।
অর্থ ব্যবস্থাপনা:
হাতখরচ বা সালামির টাকা কীভাবে সঠিকভাবে ব্যয় ও সঞ্চয় করতে হয়, সেই শিক্ষা শিশুকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে।
রান্নাঘরের ছোট কাজ:
সবজি কাটা, খাবার গরম করা, টেবিল গুছিয়ে দেওয়ার মতো ছোট কাজ শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাকে স্বনির্ভর করে তোলে।
এভাবে ছোট ছোট দায়িত্ব ও জীবনদক্ষতার সঙ্গে পরিচিত হলে শিশু আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতের যেকোনো পরিবেশে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।











