উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশারকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়, কারণ অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তবে সঠিক নিয়ম মেনে চললে উচ্চ রক্তচাপের রোগীরাও নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন। এজন্য প্রয়োজন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি
রোজা শুরুর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। ওষুধের সময় বা মাত্রায় কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন হলে তা চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন। ইফতার ও সেহরির মাঝে ওষুধ গ্রহণের সঠিক সময় মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইফতার ও সেহরিতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
ইফতারে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং চিনি ছাড়া প্রাকৃতিক ফলের রস পান করা শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, যেমন আচার বা নোনতা খাবার, এবং ডুবো তেলে ভাজা ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
প্রক্রিয়াজাত মাংস কম খাওয়া এবং সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ খাওয়া উপকারী। পাশাপাশি ক্যালসিয়ামের জন্য কম চর্বিযুক্ত দুধ বা দই খাওয়া ভালো এবং লাল মাংস কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা বজায় রাখা প্রয়োজন
ধূমপান রক্তচাপ দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, তাই এটি পরিহার করা উচিত। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তারাবির নামাজও শরীরচর্চার একটি ভালো উপায় হিসেবে কাজ করতে পারে।
সতর্ক সংকেত অবহেলা করা যাবে না
রোজা অবস্থায় যদি মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা বুক ধড়ফড় করার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এছাড়া নিয়মিত রক্তচাপ মাপার অভ্যাস রাখা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক নিয়ম মেনে চললে রোজা শুধু ধর্মীয় পালন নয়, বরং এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের একটি ভালো সুযোগও হতে পারে।











