যুক্তরাষ্ট্রের নতুন খাদ্য নির্দেশিকায় খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের গুরুত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রসহ ফেডারেল কর্মকর্তারা প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ—উভয় ধরনের প্রোটিন গ্রহণে উৎসাহ দিচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
মায়ো ক্লিনিকের সুপারিশ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা শরীরের ওজনের ভিত্তিতে প্রতি কেজিতে ০.৮ গ্রাম বা প্রতি পাউন্ডে ০.৩৬ গ্রাম। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, বেশির ভাগ আমেরিকান প্রতিদিন তাদের প্রয়োজনের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি প্রোটিন গ্রহণ করছেন।
হিউস্টন মেথডিস্ট হাসপাতালের নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ নুবিয়ান গ্যাটলিন বলেন, শরীরের প্রতি পাউন্ডে এক গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের ধারণা অনেক ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জিত। অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা ও পেটব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তিনি আরও জানান, নিয়মিত ব্যায়াম করা ব্যক্তি বা ক্রীড়াবিদদের জন্যও সাধারণত এত বেশি প্রোটিনের প্রয়োজন হয় না। মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, শারীরিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদের জন্য দৈনিক শরীরের প্রতি কেজিতে ১.১ থেকে ১.৫ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণই যথেষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণে হজমজনিত সমস্যার পাশাপাশি কিটো ব্রেথের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। কিটোসিস অবস্থায় শরীর চর্বি পোড়াতে শুরু করলে নিঃশ্বাসে ফল বা নেইল পলিশের মতো গন্ধ হতে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত প্রোটিন, বিশেষ করে লাল মাংস ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফেনাযুক্ত প্রস্রাবও কিডনি সমস্যার একটি সতর্ক সংকেত। নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিনের কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. সিবেল ঘোসেইন বলেন, প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন বের হওয়া কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিন গ্রহণই সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ।











