বেশিরভাগ পরিবারেই সবার জন্য একই পদ রান্না করা হয়। ছোট শিশু থেকে বয়স্ক সবাই একই খাবার খেয়ে থাকেন। কিন্তু শরীর বয়সের সঙ্গে বদলায়। হজমক্ষমতা, হরমোন কার্যকলাপ এবং পুষ্টি শোষণের ধরনও বয়সভেদে পরিবর্তিত হয়। ফলে এক বয়সে নিরাপদ খাবার অন্য বয়সে ক্ষতিকর হতে পারে।
শিশু বয়স (০–৫ বছর)
শরীর ও মস্তিষ্কের দ্রুত বৃদ্ধির পর্যায়। অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার (প্যাকেট বিস্কুট, চকলেট, কেক, মিষ্টি পানীয়) দাঁতের ক্ষয় বাড়ায় এবং ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে। ইউনি-সেফের তথ্য মতে, ছোটবেলা থেকে বেশি চিনি খাওয়ার অভ্যাস ভবিষ্যতে টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কিশোর বয়স (৬–১৮ বছর)
শারীরিক ও হরমোন পরিবর্তন দ্রুত ঘটে। ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ ফাস্ট ফুড নিয়মিত খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। এনার্জি ড্রিঙ্কের অতিরিক্ত ক্যাফেইন ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ ও হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিকতা তৈরি করতে পারে।
তরুণ বয়স (১৯–৩৫ বছর)
অতিরিক্ত প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল লিভারে ফ্যাটি লিভার তৈরি করে।
মধ্যবয়স (৩৬–৫৫ বছর)
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। প্রতিদিন ৫ গ্রামের বেশি লবণ উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে। সাদা ভাত, ময়দা ও চিনি বেশি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
বয়স্ক (৫৫ ঊর্ধ্বে)
হজমশক্তি কমে যায়, হাড়ের ঘনত্ব কমে। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার ও লাল মাংস কোলেস্টেরল বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এই বয়সে নরম, সহজপাচ্য, ফাইবারসমৃদ্ধ ও কম তেল-মসলাযুক্ত খাবার সবচেয়ে উপকারী।
সবশেষে বলা যায়, সব বয়সের জন্য এক খাবার উপযুক্ত নয়। বয়স অনুযায়ী খাবারের ধরন পরিবর্তন জরুরি। সঠিক বয়সে সঠিক খাবার বেছে নেওয়া ভবিষ্যতের রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।











