রক্তদান শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে। তবে অনেকেই রক্ত দিতে দ্বিধাবোধ করেন। কেউ ভাবেন এতে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে, কেউ আবার আশঙ্কা করেন দীর্ঘমেয়াদি কোনো ক্ষতি হতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, সুস্থ মানুষের শরীর রক্তদানের পর দ্রুত নিজেকে পুনর্গঠিত করতে পারে। এবং এই প্রক্রিয়া শুরু হয় প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই।
রক্তদানের সময় সাধারণত প্রায় ৪৫০-৫০০ মিলিলিটার রক্ত নেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তরল অংশ, অর্থাৎ প্লাজমা পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করে। আমেরিকান রেড ক্রস জানিয়েছে, প্লাজমা সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এই সময় শরীরের টিস্যু থেকে তরল রক্তনালিতে প্রবাহিত হয় যাতে রক্তচাপ স্থিতিশীল থাকে। কিডনি শরীরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে, তাই দাতাকে বেশি পানি পান করতে বলা হয়।
রক্তদানের পর লিভার গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন অ্যালবুমিন পুনর্গঠন শুরু করে, যা রক্তের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে। হরমোনাল সিস্টেম সক্রিয় হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে সংকেত দেয়, যেন তারা একসঙ্গে কাজ করে রক্তের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।
রক্তের তরল অংশ দ্রুত স্বাভাবিক হলেও লোহিত রক্তকণিকা পুরোপুরি পুনর্গঠিত হতে সাধারণত ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগে। তবে অস্থিমজ্জা নতুন কণিকা তৈরির কাজ রক্ত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু করে। সাদা রক্তকণিকা ও প্লেটলেট সাধারণত কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রক্ত দেওয়ার পর সাময়িক মাথা ঘোরা, হালকা দুর্বলতা বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ভ্যাসোভেগাল রিঅ্যাকশন বলা হয়, যেখানে হৃৎস্পন্দন সাময়িকভাবে ধীর হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কিছুটা কমে আসে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানি পান ও হালকা খাবার গ্রহণ করলে এই উপসর্গ বেশিক্ষণ থাকে না।
আমেরিকান রেডক্রস ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সুস্থ মানুষের জন্য রক্তদান নিরাপদ এবং এটি শরীরের প্রাকৃতিক পুনর্গঠন ক্ষমতাকে সক্রিয় করে।











