ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য খাবারে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। সামান্য অসতর্কতায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে নানা জটিলতার কারণ হতে পারে। এ কারণে অনেক ডায়াবেটিক রোগী ডাব খাওয়া এড়িয়ে চলেন, কারণ তাদের ধারণা—ডাব খেলে রক্তে চিনি বেড়ে যায়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিসে ডাব পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়। পরিমাণ মেনে খেলে এটি নিরাপদই নয়, বরং উপকারীও হতে পারে। ডাবে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম এবং এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও তুলনামূলকভাবে কম। ফলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ডাবে থাকা ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। প্রতিদিন প্রায় ২–৩ টেবিল চামচ বা ৩০–৪০ গ্রাম ডাব খাওয়া যেতে পারে। ডাবের ফাইবার হজম প্রক্রিয়া ধীর করে, যার ফলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
তবে অতিরিক্ত ডাব খাওয়া উচিত নয়। এতে ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকায় বেশি খেলে ওজন বাড়তে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই পরিমিত খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
ডাবে রয়েছে ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। ডাবের মিডিয়াম চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড দ্রুত শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং শরীরে চর্বি হিসেবে জমে না।
সব মিলিয়ে, বেশি শর্করাযুক্ত মিষ্টি বা প্রসেসড স্ন্যাকসের তুলনায় ডাব ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য একটি তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে।











