আপনি হয়তো অফিসে বসে কাজ করছেন বা বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছেন—হঠাৎ মনে হলো পায়ের নিচের মাটি বা চেয়ারটি কেঁপে উঠল। আতঙ্কিত হয়ে চারদিকে তাকালেন, কিন্তু দেখলেন আশপাশে সবাই স্বাভাবিক।
কোনো ভূমিকম্পই হয়নি। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ভূমিকম্পের পর অনেকের মধ্যেই এমন অদ্ভুত অনুভূতি দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘সিসমোফোবিয়া’ বা ভূমিকম্প ভীতি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে শারীরিক ও মানসিক—দুই ধরনের কারণই কাজ করতে পারে।
মানসিক ট্রমা বা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) এর অন্যতম কারণ। বারবার ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতায় মস্তিষ্কের ভয়ের কেন্দ্র অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলে সামান্য শব্দ, চেয়ার নড়াচড়া বা ভারী গাড়ির কম্পনেও মস্তিষ্ক বিপদের সংকেত দেয় এবং মনে হয় ভূমিকম্প হচ্ছে।
শারীরিক কারণের মধ্যে রয়েছে কানের ভেতরের ভারসাম্য রক্ষাকারী তরল বা এন্ডোলিম্ফের অস্থিরতা। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে এই তরল নড়বড়ে হয়ে গেলে কম্পন থেমে যাওয়ার পরও শরীরে দুলুনির অনুভূতি থাকতে পারে।
সিসমোফোবিয়ার সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে—ভূমিকম্প ছাড়াই কম্পন অনুভব করা, বুক ধড়ফড় করা বা শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ঘুমের সমস্যা এবং সামান্য শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়া।
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি উপায় অনুসরণের পরামর্শ দেন। ভূমিকম্প সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা এবং করণীয় বিষয়ে প্রস্তুতি থাকলে অযৌক্তিক ভয় কমে। ভয় যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (সিবিটি) কার্যকর হতে পারে। এছাড়া নিয়মিত মহড়া বা ভূমিকম্প ড্রিল মানুষের মানসিক ভীতি কমাতে সহায়তা করে।











