গ্রিন টি একটি কম ক্যালরিযুক্ত পানীয়, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো পরিবেশ দূষণ, ধূমপানসহ ভেতরের ও বাইরের নানা কারণে হওয়া কোষের ক্ষতি প্রতিরোধে সাহায্য করে।
খাদ্যতালিকায় গ্রিন টি যোগ করলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণ বাড়ে, তবে সঠিক সময়ে পান করলে এর উপকারিতা আরও বেশি পাওয়া যায়।
নাস্তার ১–২ ঘণ্টা পরে
গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উদ্ভিদজাত খাবারের নন-হিম আয়রনের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে আয়রন শোষণ কমাতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের সময় না খেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পরে গ্রিন টি পান করলে এই প্রভাব প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়।
দেরিতে সকাল বা বিকেলের দিকে
এই সময় অনেকেরই ক্লান্তি বা মনোযোগ কমে যায়। গ্রিন টিতে থাকা ক্যাফেইন ও এল-থিয়ানিন সাময়িকভাবে মনোযোগ, সতর্কতা এবং মানসিক কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকিও কমতে পারে।
খাবারের সঙ্গে (যদি আয়রন সমস্যা না থাকে)
গ্রিন টি কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় খাবারের সঙ্গে এটি একটি ভালো পানীয়। কফির তুলনায় এতে ক্যাফেইনের পরিমাণও কম। এক কাপ কফিতে যেখানে প্রায় ৯২ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে, সেখানে গ্রিন টিতে থাকে প্রায় ৩০ মিলিগ্রাম।
কখন গ্রিন টি এড়িয়ে চলবেন
ঘুমানোর আগে গ্রিন টি পান করা উচিত নয়। এতে থাকা ক্যাফেইন ঘুমের মান খারাপ করতে পারে, বিশেষ করে যারা ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল। এ সময় ক্যাফেইনমুক্ত চা যেমন ক্যামোমাইল, রুইবোস বা পুদিনা চা বেছে নেওয়া ভালো।
নন-হিম আয়রনসমৃদ্ধ খাবার যেমন পালং শাক, ডাল, বিনস, টোফু বা ফোর্টিফাইড সিরিয়ালের সঙ্গে বা তার আশেপাশে গ্রিন টি পান করলে আয়রন শোষণ কমে যেতে পারে। তাই এসব খাবারের অন্তত এক ঘণ্টা আগে ও পরে গ্রিন টি এড়িয়ে চলা উচিত।
আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সময়ও গ্রিন টি পান করা ঠিক নয়, কারণ এটি সাপ্লিমেন্ট থেকে আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করে।
ব্যায়ামের আগে গ্রিন টি পান করা বাধ্যতামূলক নয়। যদিও ক্যাফেইন কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, গ্রিন টিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এটি ব্যায়ামের পারফরম্যান্স বৃদ্ধির সবচেয়ে কার্যকর উৎস নয়।
গ্রিন টি থেকে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়ার উপায়
গ্রিন টি বায়ুরোধী পাত্রে, ঠাণ্ডা, শুকনো ও অন্ধকার স্থানে সংরক্ষণ করুন। এতে এর স্বাদ, সুবাস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভালোভাবে বজায় থাকে।
চা তৈরির সময় পানির তাপমাত্রা ও ভেজানোর সময় গুরুত্বপূর্ণ। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সর্বাধিক পেতে ৮০–৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস গরম পানিতে ৫–১০ মিনিট গ্রিন টি পাতা ভিজিয়ে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়।











