রমজান মাসে দৈনন্দিন জীবনের ছন্দ বদলায়—ভোরে সেহরি, সারাদিন রোজা, সন্ধ্যায় ইফতার এবং রাতে তারাবিহ ও সামাজিক মিলনমেলা। এই পরিবর্তন শরীরের সঙ্গে চোখের স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞরা জানান, বিকেলের দিকে চোখে ঝাপসা, খসখসে ভাব বা চোখে চাপ অনুভূত হওয়া সাধারণ। প্রধান কারণগুলো হলো পানিশূন্যতা, কম ঘুম, এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা। ইফতারের পর পর্যাপ্ত পানি পান করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে চোখের সমস্যা স্বাভাবিক হয়ে আসে।
ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য রোজায় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে মস্তিষ্ক চোখের তথ্য প্রক্রিয়া করতে সমস্যা পায়, ফলে ঝাপসা বা অন্ধকার দাগ দেখা দিতে পারে। ইফতারে অতিরিক্ত মিষ্টি গ্রহণ করলে চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালিতে চাপ সৃষ্টি হয়।
চোখ ক্লান্ত হওয়ার কারণ হিসেবে কম পলক ফেলা, শুষ্ক পরিবেশ, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন দেখা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ উল্লেখ করা হয়েছে। রেটিনা ও চোখের পেছনের আলোকসংবেদনশীল অংশ রক্তে শর্করার ওঠানামায় খুব সংবেদনশীল।
চোখের ড্রাই আই, খসখসে ভাব, ঝাপসা এবং পড়ার সময় অস্বস্তি এড়াতে ইফতার থেকে সেহরির মধ্যে পর্যাপ্ত পানি পান এবং প্রয়োজনে প্রিজারভেটিভ-ফ্রি কৃত্রিম চোখের পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
গ্লুকোমা রোগীদের জন্য সতর্কবার্তা—নিয়মিত ওষুধ ও চোখের ড্রপ ব্যবহার রোজা ভাঙে না। তবে ডোজ মিস করলে চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে যেতে পারে।
চিকিৎসকের সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ জরুরি যদি দেখা দেয়—
-
দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ কমে যাওয়া
-
হঠাৎ ফ্লোটার দেখা
-
চোখে পর্দার মতো ছায়া
-
তীব্র ব্যথা
-
আলো সহ্য না করা











