বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অর্জন ছিল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কাঠামো ভেঙে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
সরকারের উদ্যোগে ২০১০ সালের দুর্নীতির জন্য ব্যবহৃত বিশেষ আইন বাতিল করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মূল্য নির্ধারণে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যার ফলে গত ১৭ মাসে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। সচিবদের একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের কম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন বন্ধ করা হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫, মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি-২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
দুর্নীতির ধরন ও পদ্ধতি চিহ্নিত করতে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যত নির্বাচিত সরকারের জন্য প্রাসঙ্গিক প্রতিবেদন রেখে গেছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য একটি এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সেক্টর মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণভাবে ওপেন টেন্ডার পদ্ধতিতে দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি আমদানিতে সাশ্রয় এবং প্রিমিয়াম কমে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার সঞ্চয় হয়েছে। ৫৮ বছর পুরোনো ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নের প্রকল্প সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে অনশোর ও অফশোর ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ফাওজুল কবির খান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্থায়ী সমাধানের জন্য পূর্ণ মেয়াদের সরকার প্রয়োজন। অন্তর্বর্তী সরকার যে ভিত্তি রেখে যাচ্ছে, তা ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।











