২০২৫ সাল ছিল বিশ্ব ইতিহাসে তৃতীয় উষ্ণতম বছর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কপেরনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের (C3S) প্রকাশিত
গ্লোবাল ক্লাইমেট হাইলাইটস ২০২৫’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের গড় তাপমাত্রা ২০২৪ সালের তুলনায় মাত্র ০.১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালই এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে রেকর্ডে রয়েছে।
প্রথমবারের মতো টানা তিন বছর—২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫—পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব সময়ের (১৮৫০–১৯০০) তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়েছে। কপেরনিকাসের চার্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৪০ সাল থেকে প্রতিদিনের বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এল নিনো ও লা নিনার মতো প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো সাময়িক প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধিকেই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০২৫ সাল ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ লা নিনা বছর। সাধারণত লা নিনা তাপমাত্রা কিছুটা কমায়, কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম দেখা গেছে। বৈশ্বিক মানচিত্রে দেখা যায়, বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলেই তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চল এবং পশ্চিম রাশিয়ায় উষ্ণতা ছিল অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ।
সমুদ্রের বরফ পরিস্থিতিও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আর্কটিকে মার্চ মাসে বরফের পরিমাণ ছিল স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণের ৪৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অ্যান্টার্কটিকাতেও বছরের বিভিন্ন সময়ে বরফের পরিমাণ ছিল রেকর্ড অনুযায়ী সর্বনিম্নের কাছাকাছি। ফেব্রুয়ারি মাসে দুই মেরুর বরফ মিলিয়ে বৈশ্বিক সমুদ্রবরফের পরিমাণ ইতিহাসের সর্বনিম্নে নেমে আসে।
এল নিনো না থাকলেও ২০২৫ সালে বিশ্বের অধিকাংশ সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের প্রতিটি দিনই শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় অন্তত ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ ছিল এবং এর মধ্যে ১৫১ দিন তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রির সীমা অতিক্রম করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ সালের মতো চরম না হলেও ২০২৫ সাল বৈশ্বিক উষ্ণতার ভয়াবহ বাস্তবতা স্পষ্ট করেছে। কানাডার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সাল বিশ্ব ইতিহাসের চারটি উষ্ণতম বছরের একটি হতে পারে।











