খরচ ছাড়াই জমি বর্গা দেওয়া কি জায়েজ? ফসল দীর্ঘদিন ঘরে রাখলে তা কি মজুদদারী হবে—জানুন শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি।
আমাদের দেশের বাড়ির সব জমি বর্গা দেওয়া। বর্গাদার ফসলের অর্ধেক পায় আর আমরা অর্ধেক। বর্গাদারের চাষাবাদ বাবদ কোনো খরচ আমরা দিই না—এটাই প্রচলিত নিয়ম।
সাধারণত বছরে দুইবার ধান চাষ হয়। নতুন ধান ওঠার আগ পর্যন্ত পুরনো ধান বিক্রি করা হয় না। নতুন ধান উঠলে পুরনো ধান বিক্রি করে নতুন ধান গোলায় রাখা হয়। নতুন ধান ঘরে উঠতে প্রায় ৫–৬ মাস সময় লাগে।
এখন জানার বিষয় হলো—
(ক) কোনো খরচ না দিয়ে জমি বর্গা দেওয়ার বিধান কী?
(খ) ধান ঘরে ৫–৬ মাস রেখে পরে বিক্রি করা কি মজুদদারীর অন্তর্ভুক্ত?
—আবদুল্লাহ, ঢাকা
✅ উত্তর
(ক) প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে জমি বর্গা দেওয়া জায়েজ। বর্গা চুক্তিতে জমির মালিকের জন্য চাষাবাদের খরচ দেওয়া আবশ্যক নয়। জমির মালিক জমি দেবেন এবং চাষি তার শ্রম ও খরচ বহন করবে—এই ভিত্তিতে ফসল ভাগাভাগি হলে তা শরীয়তসম্মত।
(খ) ফসল ৫–৬ মাস ঘরে রেখে পরে বিক্রি করা শরীয়তে নিষিদ্ধ মজুদদারীর অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে খাদ্যসংকটের সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফসল ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারে না ছেড়ে রেখে দেওয়া অনুচিত।
📚 সূত্র
বর্গা চুক্তি: সহীহ মুসলিম ২/১৪; হিদায়া ৪/৪২৬; বাদায়েউস সানায়ে ৫/২৬০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/২৭৮
ঘরে ধান রাখা: ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/২১৪; আল-মুগনী ৬/৩১৬; ফাতহুল কাদীর ৮/৪৯২











