দেশজুড়ে ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অবৈধ মজুত ও চোরাচালান রোধে নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫ হাজার ৪২৫ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার বিজিবির সদর দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, ভোজ্যতেলের অবৈধ পাচার ও মজুত রোধে পরিচালিত অভিযানে ধারাবাহিক সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে জয়পুরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ফেনী, কক্সবাজার ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে এসব তেল জব্দ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে ১৩ হাজার ১৭৭ লিটার এবং ২০২৫ সালে ৩০ হাজার ৯২ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে গত তিন বছরে মোট ৪৩ হাজার ২৬৯ লিটার তেল উদ্ধার করেছে বিজিবি।
সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো কাজীপাড়া এলাকায় বিজিবি ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর একটি যৌথ দল অভিযান চালায়। অভিযানে রাজু ও খোরশেদ নামে দুই ব্যক্তির গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ৯টি ব্যারেলে প্রায় ২ হাজার লিটার খোলা সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে আরও দেখা যায়, স্থানীয় বাজার থেকে খোলা সয়াবিন তেল সংগ্রহ করে অবৈধভাবে মজুত ও বোতলজাত করা হচ্ছিল। পরে ‘বন্ধন প্লাস’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ নামের স্টিকার লাগিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজিবি জানায়, এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকারের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোজ্যতেল পাচার প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত ও বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন যানবাহন, নৌযান এবং সীমান্তবর্তী গুদামে তল্লাশি অভিযানও বাড়ানো হয়েছে।
এ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।











