রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
সকাল থেকেই হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এ সময় তারা বলেন, কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও হাসপাতাল প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু বারবার হামলার ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা. সাদমান মীর মিরাজ বলেন,
‘মঙ্গলবার মধ্যরাতে অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রোপচার চলাকালে রোগীর কয়েকজন স্বজন হঠাৎ করে সার্জারিতে নিয়োজিত মিড লেভেল চিকিৎসক, রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালায়। এতে অপারেশন থিয়েটারের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।’
তিনি আরও বলেন,
‘অপারেশন থিয়েটার একটি সংবেদনশীল ও জীবনরক্ষাকারী স্থান। সেখানে এ ধরনের হামলা শুধু চিকিৎসকদের নয়, রোগীর জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। বারবার নিরাপত্তার দাবি জানালেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।’
ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. নাঈম শাহরিয়ার বলেন,
‘চিকিৎসকরা রোগীর সেবায় সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করেন। অথচ বিনিময়ে তাদের হামলা, হুমকি ও অপমানের শিকার হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন।’
তিনি জানান, হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলেন, দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে একই ধরনের হামলার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে চিকিৎসক সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
কর্মবিরতির ফলে হাসপাতালে রোগীসেবায় বিঘ্ন ঘটছে বলে জানা গেছে। তবে জরুরি বিভাগে সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।











