লাইলাতুল বরাত মাহে রমজানের মুয়াজ্জিন হিসেবে পরিচিত মুমিনদের কাছে। শাবানকে বলা হয় রমজানের প্রস্তুতিমূলক মাস। এ মাসেই পবিত্র কাবা মুসলমানদের কিবলা হিসেবে নির্ধারিত হয়। মাহে রমজানের প্রস্তুতির মাস হিসেবে শাবান মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত বরকতময়।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে রমজান ছাড়া এত বেশি রোজা রাখতে দেখিনি, যত বেশি রোজা তিনি শাবানে রাখতেন।’ হঠাৎ রমজানে রোজা শুরু করলে উম্মতের কষ্ট হতে পারে—সে জন্য রাসুল (সা.) নিজে শাবানে বেশি রোজা রেখে উম্মতকে প্রস্তুতির শিক্ষা দিয়েছেন।
রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসে রোজা ফরজ নয়। তবে নফল রোজার রয়েছে অপরিসীম ফজিলত। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘জান্নাতে রাইয়ান নামে একটি দরজা রয়েছে, কিয়ামতের দিন রোজাদাররা সেখান দিয়ে প্রবেশ করবে।’ (বোখারি, মুসলিম)। অন্য হাদিসে এসেছে, আল্লাহর জন্য এক দিন রোজা রাখলে আল্লাহ বান্দাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেন।
হজরত আয়েশা (রা.) আরও বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে রমজান ছাড়া পূর্ণ মাস রোজা রাখতে দেখিনি এবং শাবান ছাড়া অন্য কোনো মাসে এত বেশি রোজা রাখতেও দেখিনি।’ (নাসায়ি)
রাসুল (সা.) শাবানের চাঁদের হিসাব রাখার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের সম্মানার্থে শাবানের চাঁদের হিসাব গণনা করে রাখো।’ (তিরমিজি)। রজব ও শাবান এলে তিনি দোয়া করতেন—‘হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবানকে বরকতময় করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ (নাসায়ি)
লাইলাতুল বরাত রমজানের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ রাতে বেশি বেশি ইবাদত ও পরদিন রোজা রাখার কথা বলেছেন রাসুল (সা.)। হাদিসে এসেছে, এ রাতে আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের ক্ষমা করেন, তবে মুশরিক ও হিংসুক ব্যক্তি ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকে।
অতএব, লাইলাতুল বরাতের প্রকৃত ফজিলত পেতে হলে শিরক ও হিংসা থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি। শাবানে বেশি বেশি ইবাদতের মাধ্যমে রমজানের জন্য মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করলে রমজানের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের পথ সহজ হয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সে তৌফিক দান করুন।











