কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
সুরা: বনি ইসরাঈল
আয়াত: ৫৫
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
وَ رَبُّكَ اَعۡلَمُ بِمَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ؕ وَ لَقَدۡ فَضَّلۡنَا بَعۡضَ النَّبِیّٖنَ عَلٰی بَعۡضٍ وَّ اٰتَیۡنَا دَاوٗدَ زَبُوۡرًا ﴿۵۵﴾
সরল অনুবাদ:
৫৫. আর যারা আসমানসমূহ ও যমীন আছে তাদের সম্পর্কে আপনার রব অধিক অবগত। আর অবশ্যই আমরা নবীগণের কিছু সংখ্যককে কিছু সংখ্যকের উপর মর্যাদা দিয়েছি এবং দাউদকে দিয়েছি যাবূর।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
সুরা বনি ইসরাঈলের এই আয়াতটিতে মক্কার কাফেরদের একটি প্রশ্নের উত্তরে “নবীগণের কিছু সংখ্যককে কিছু সংখ্যকের উপর মর্যাদা দিয়েছি” বিষয়টার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। যদিও সুরার বাক্কারার ২৫৩ নং আয়াতে বিষয়টি আগেই বলা হয়েছিল।
মক্কার কাফেররা বলত যে, আল্লাহ কি তাঁর রিসালতের জন্য এই মুহাম্মাদকেই দিয়েছেন? তখন মহান আল্লাহ তাদের উত্তরে বললেন, কাউকে রিসালাতের জন্য নির্বাচন করা এবং কোনো এক নবীকে অপর নবীর উপর প্রাধান্য দেওয়া—এ সব কেবল তাঁরই এখতিয়ারাধীন।
আয়াতের শেষে উল্লেখিত জাবূর আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত একটি গ্রন্থ। আমরা ঈমান রাখি যে, আল্লাহ তাআলা দাউদ আলাইহিস সালামকে একখানি গ্রন্থ দিয়েছিলেন যার নাম জাবূর। তবে বর্তমানে বাইবেলে যে “দাউদের সংগীত” নামে অংশ আছে, তা মূল জাবূরের সমান বলা যাবে না।
কিছু হাদীসে এসেছে, দাউদ আলাইহিস সালামের গ্রন্থের নাম “কুরআন” বলা হয়েছে। এর অর্থ তখন হবে “পাঠযোগ্য গ্রন্থ”। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“দাউদের উপর কুরআন সহজ করে দেয়া হয়েছিল। তিনি তার বাহনের লাগাম লাগাতে নির্দেশ দিতেন। তারা তা লাগিয়ে শেষ করার আগেই তিনি তা পড়া শেষ করে ফেলতেন।” (বুখারি, হাদিস: ৪৭১৩)











