রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। শুধু নিজের ইবাদতে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যের ইবাদতে সহযোগিতা করাও এই মাসের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। বিশেষ করে রোজাদারকে ইফতার করানো এমন একটি আমল, যা সামান্য খরচে অসীম সওয়াবের দ্বার খুলে দেয়।
আল্লাহ তাআলা কোরআনে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো।’ (সুরা: মায়িদা, আয়াত: ২) রোজাদারকে ইফতার করানো এই সহযোগিতারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। একজন ব্যক্তি সারা দিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখে, আর অন্য কেউ সামান্য খাবার বা পানির মাধ্যমে তার ইবাদতের অংশীদার হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে; অথচ রোজাদারের সওয়াব থেকে কোনো অংশ কমানো হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৮০৭; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৭৪৬) এক গ্লাস পানি, একটি খেজুর বা সামান্য খাবার দিয়েও একজন মুসলিম অফুরন্ত সওয়াব অর্জন করতে পারে।
পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে, নেককাররা এতিম ও দরিদ্রকে আহার করায় আল্লাহর ভালোবাসায় অংশগ্রহণ করে। (সুরা: আল-ইনসান, আয়াত: ৮) রমজানে দরিদ্র ও অভাবী রোজাদারদের ইফতার করানো এই আয়াতের বাস্তব প্রয়োগ। এতে ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট লাঘব হয় এবং দাতার অন্তরে তাকওয়া ও মানবিকতা বৃদ্ধি পায়।
রোজাদারকে ইফতার করানো সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের পরিবেশ সৃষ্টি করে। মসজিদ, মহল্লা বা পরিবারের মধ্যে একসঙ্গে ইফতার করা পারস্পরিক ভালোবাসা বাড়ায়, ধনী-গরিবের ব্যবধান কমায় এবং ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের সৌন্দর্য প্রকাশ করে।
তবে ইফতার আয়োজন প্রদর্শন, অপচয় বা প্রতিযোগিতার মাধ্যম হয়ে যাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ (সুরা: ইসরা, আয়াত: ২৭) তাই আড়ম্বর নয়, আন্তরিকতা ও ইখলাসই মূল লক্ষ্য।
রমজান আমাদের শেখায়, নিজের জন্য ইবাদত করার পাশাপাশি অন্যের ইবাদতে সাহায্য করাও বড় নেক আমল। একটি খেজুর, এক গ্লাস পানি বা সামান্য খাবার দিয়েও আমরা অফুরন্ত সওয়াবের অধিকারী হতে পারি। তাই আসুন, এই বরকতময় মাসে রোজাদারদের ইফতার করানোর অভ্যাস গড়ে তুলি এবং দান, সহমর্মিতা ও তাকওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করি।











