রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। এ মাসে রোজা ও কিয়ামুল লাইল শুধু আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়, বরং তা অন্তরের পরিবর্তন, চরিত্রের পরিশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সব ইবাদত সমান ফল বয়ে আনে না। ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে নিয়ত, খালিসত্ব ও আমলের শুদ্ধতার উপর।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করেছেন; কেবল ক্ষুধার্ত থাকা বা রাত জাগলেই প্রকৃত সওয়াব পাওয়া যায় না। আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رُبَّ صَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ صِيَامِهِ إِلَّا الْجُوعُ وَرُبَّ قَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ قِيَامِهِ إِلَّا السَّهَرُ
(ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৯০)
অর্থাৎ, কত রোজাদার আছে যাদের রোজার বিনিময়ে ক্ষুধা ছাড়া আর কিছুই জোটে না। কত নামাজ আদায়কারী আছে যাদের রাত জাগরণ ছাড়া আর কিছুই জোটে না।
হাদিসটি আমাদের শেখায়, রোজা যদি মানুষকে মিথ্যা, গীবত, অন্যায় ও অসচ্চরিত্র থেকে বিরত রাখতে না পারে, তবে সে কেবল দেহের কষ্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ পরিত্যাগ করে না, তার পানাহার ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজন আল্লাহর নেই। অর্থাৎ রোজার উদ্দেশ্য কেবল উপবাস নয়, বরং আত্মসংযম ও নৈতিক সংশোধন।
রাতভর নামাজও তখনই ফলপ্রসূ, যখন তা একনিষ্ঠতা, বিনয় ও আল্লাহভীতির সঙ্গে সম্পন্ন হয়। যদি অন্তরে অহংকার, লোকদেখানো মানসিকতা বা গুনাহের প্রতি উদাসীনতা থেকে যায়, তবে সেই কিয়াম কেবল নিদ্রাহীনতার কষ্টে পরিণত হয়।
এই হাদিস আমাদের শেখায়, বাহ্যিক ইবাদতের আড়ালে অন্তর যেন শূন্য না থাকে। রোজা যেন আমাদের ভাষাকে সংযত করে, দৃষ্টি ও আচরণকে পবিত্র করে, অন্তরে আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা জাগ্রত করে।
তাহলেই রোজা ক্ষুধা নয়, হয়ে উঠবে রহমত; আর রাতের ইবাদত হবে নিছক জাগরণ নয়, বরং নূর ও নাজাতের পথ।











