কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
সুরা: বনি ইসরাঈল
আয়াত: ৭০
عربی متن:
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
وَ لَقَدۡ كَرَّمۡنَا بَنِیۡۤ اٰدَمَ وَ حَمَلۡنٰهُم فِی الۡبَرِّ وَ الۡبَحۡرِ وَ رَزَقۡنٰهُم مِّنَ الطَّیِّبٰتِ وَ فَضَّلۡنٰهُم عَلٰی كَثِیۡرٍ مِّمَّنۡ خَلَقۡنَا تَفۡضِیۡلًا ﴿۷۰﴾
সরল অনুবাদ:
(৭০) আমি তো আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, স্থলে ও সমুদ্রে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছি এবং যাদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি, তাদের অনেকের উপর তাদেরকে যথেষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
সুরা বনি ইসরাঈলের এই আয়াতটিতে বলা হচ্ছে, মহান আল্লাহ্ তাআলা আদম-সন্তানকে বিভিন্ন দিক দিয়ে এমন বৈশিষ্ট্য দান করেছেন, যা অন্যান্য সৃষ্টজীবের মধ্যে নেই। উদাহরণস্বরূপ: সুশ্রী চেহারা, সুষম দেহ, সুষম প্রকৃতি এবং অঙ্গসৌষ্ঠব। (ইবন কাসীর)
যেমন অন্য আয়াতে বলা হয়েছে:
“أَلَمْ نَخْلُقْ الْإِنسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ” (সূরা আত-তীন: ৪)
অর্থাৎ, আমরা মানুষকে সুন্দরতম গঠনে সৃষ্টি করেছি।
মানুষকে দু'পায়ে সোজা দাঁড়ানোর ক্ষমতা, হাতে খাওয়ার শক্তি এবং চোখ, কান ও অন্তরের মাধ্যমে বিচার-বুদ্ধি দেওয়া হয়েছে। এসবের সাহায্যে সে দ্বীনী ও দুনিয়াবী বিষয়ে ভাল-মন্দের পার্থক্য করতে পারে। (ইবন কাসীর)
বুদ্ধি ও চেতনায় মানুষকে বিশেষ স্বাতন্ত্র্য প্রদান করা হয়েছে। এর সাহায্যে সে সমগ্র উর্ধ্ব-জগত ও অধঃজগতকে কাজে লাগাতে পারে। আল্লাহ্ তাকে বিভিন্ন সৃষ্টবস্তুর সংমিশ্রণে শিল্পদ্রব্য প্রস্তুত করার শক্তি দিয়েছেন, যা তার বাসস্থান, চলাফেরা, আহার্য ও পোশাক-পরিচ্ছদে গুরুত্বপূর্ণ।
বাকশক্তি ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার নৈপুণ্য মানুষকে অন্য প্রাণীর তুলনায় শ্রেষ্ঠ করেছে। বিবেক-বুদ্ধি ও চেতনা মানুষের প্রধান শ্রেষ্ঠত্ব। এর মাধ্যমে সে সৃষ্টিকর্তা ও প্রভুর পরিচয় জানতে পারে এবং পছন্দের পথে এগিয়ে চলে, অপছন্দ থেকে বিরত থাকে। (ফাতহুল কাদীর)











