প্রশ্ন:
যদি কেউ মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা করে, তাহলে কি সে নিজেও সেই সদকার সওয়াব পাবে?
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ, সালাত ও সালাম রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর। মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা করলে তা তার উপকারে আসে এবং এর সওয়াব তার কাছে পৌঁছে—এ বিষয়ে মুসলিম উম্মাহর ঐকমত্য রয়েছে। একই সঙ্গে, যে ব্যক্তি সদকা করে, সেও এ সদকার সওয়াব লাভ করে।
এ বিষয়ে দলিল পাওয়া যায় সহিহ হাদিসে। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, হযরত আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত—এক ব্যক্তি নবী করিম (সা.)-এর কাছে এসে বলেন, “আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন। আমার ধারণা, যদি তিনি কথা বলার সুযোগ পেতেন তবে সদকা করতেন। তাহলে আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদকা করি, আমার কি সওয়াব হবে?” তিনি (সা.) জবাবে বলেন, “হ্যাঁ।”
ইমাম নববী (রহ.) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, এতে প্রমাণিত হয় যে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা করা জায়েয ও মুস্তাহাব। এর সওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে এবং তা তার উপকারে আসে। পাশাপাশি সদকাকারী ব্যক্তিও সওয়াবপ্রাপ্ত হন—এ ব্যাপারে মুসলিমদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।
এছাড়া সমকালীন আলেমরা উল্লেখ করেছেন, সদকা মৃত ব্যক্তির উপকারে আসে এবং দানকারীর জন্যও অনুরূপ সওয়াবের আশা করা যায়। কারণ তিনি একটি সৎকর্ম সম্পাদন করেছেন এবং অন্যের উপকার সাধন করেছেন। নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের পথ প্রদর্শন করে, তার জন্য সে কল্যাণ সম্পাদনকারীর অনুরূপ সওয়াব রয়েছে।
তাই কেউ যদি তার পিতা-মাতা বা অন্য কোনো আত্মীয়ের পক্ষ থেকে সদকা করে, তাহলে যার পক্ষ থেকে সদকা করা হয়েছে সে সওয়াব পাবে এবং দানকারীও সওয়াব পাবে। একইভাবে, কারও পক্ষ থেকে হজ আদায় করলেও উভয়ের জন্য সওয়াবের আশা করা যায়।
শরীয়তের মূলনীতি হলো—যে ব্যক্তি অন্যের উপকার করে, সে মহান প্রতিদান লাভ করে। আর যখন কেউ অন্যের পক্ষ থেকে কোনো সৎকর্ম সম্পাদন করে, তখন যার জন্য তা করা হয়েছে তার মতো সওয়াব পাওয়ার আশা করা যায়। আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ অত্যন্ত ব্যাপক।











