পাবনার ঈশ্বরদীতে অভিযান চালিয়ে আধুনিক রাইফেলের ২৪ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি পিস্তলের খালি ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পানি সরবরাহের জন্য নির্মাণাধীন ওয়াসার প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের আবাসিক কক্ষে এ অভিযান চালানো হয়।
এ ঘটনায় ওয়াসার সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক গোলাম কিবরিয়া শাকিলের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকশী ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম।
শাকিলের বাড়ি পাবনার চরতারাপুর ইউনিয়নের বাঙ্গিডাঙ্গা গ্রামে। তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পানি সরবরাহের জন্য নির্মাণাধীন ওয়াসার একটি সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রকল্পের এক শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শী মো. মামুন হোসেন জানান, ঘটনার সময় শাকিল অজ্ঞাত দুজনকে সঙ্গে নিয়ে নিজের কক্ষে আসেন। কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতর থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে শাকিলসহ ওই দুজন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে চলে যান। এরপর পুলিশ এসে কক্ষটি তল্লাশি করে রাইফেলের ২৪টি গুলি ও একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করে।
এলাকাবাসী জানান, নির্বাচনের আগে পাকশীর আবাসিক এলাকায় গভীর রাতে গুলির শব্দে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয় রাজনৈতিক গ্রুপিং দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসা কেন্দ্র দখল, জমি দখল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এলাকায় এর আগেও অস্ত্রের মহড়া ও গুলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
নির্বাচনের আগে আধুনিক রাইফেলের গুলি ও বিপুল পরিমাণ তাজা গুলি উদ্ধারের ঘটনায় পাকশীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
পাকশী ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির ঘটনা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা দীর্ঘদিনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। ঘটনার সময় ইয়াবা সেবনের এক পর্যায়ে রাইফেল থেকে গুলির বিস্ফোরণ ঘটে। পরে তারা পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে আধুনিক রাইফেলের ২৪ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন ও ইয়াবা সেবনের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারসহ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।
এ বিষয়ে বারবার চেষ্টা করেও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।











