বান্দরবান পৌর এলাকার উজানীপাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬টি পাহাড়ি বসতঘর ও ২টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (২ মার্চ) সকালে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। অল্প সময়ের ব্যবধানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালবেলা হঠাৎ একটি ঘর থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পাহাড়ি এলাকায় ঘরগুলো অধিকাংশই কাঠ, বাঁশ ও টিন দিয়ে নির্মিত হওয়ায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্থানীয়রা প্রথমে নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, তবে পানির স্বল্পতা ও আগুনের তীব্রতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে তাদের পৌঁছানোর আগেই কয়েকটি কাঁচা বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। পরে দীর্ঘ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুনের তীব্রতায় পার্শ্ববর্তী ভবনগুলোও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবারের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও দোকানের মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে।
বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার ফাইটার মো. শরীফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ৬টি বসতঘর ও ২টি দোকান পুড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাৎক্ষণিক সহায়তার আশ্বাস দেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী, শীতবস্ত্র ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এ সময় পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফয়জুর রহমান, পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা করুনা কান্তি বড়ুয়াসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ি এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনা জোরদার না থাকায় প্রায়ই ছোট ঘটনা বড় আকার ধারণ করে। দ্রুত পানি সরবরাহ ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের ব্যবস্থা থাকলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো বলে তারা মনে করেন।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। অনেকেই আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন। পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।











