কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় মোবাইল ডিসপ্লে ও আতশবাজি উদ্ধার করেছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)। উদ্ধারকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোর আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার যশপুর বিওপির আওতাধীন লক্ষ্মীপুর সীমান্ত এলাকার প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘বলের ডেপা’ নামক স্থানে মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ মোবাইল ডিসপ্লে ও কিং কোবরা ব্র্যান্ডের আতশবাজি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব পণ্য অবৈধভাবে ভারত থেকে দেশে আনা হয়েছিল। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহলরত বিজিবি সদস্যরা সন্দেহজনক অবস্থায় মালামালগুলো দেখতে পেয়ে তা জব্দ করেন। তবে অভিযানের সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে এবং বিপুল পরিমাণ আতশবাজি ছিল। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব পণ্য অবৈধভাবে বাজারজাত করা হলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাত। একই সঙ্গে নিম্নমানের ও অননুমোদিত ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ব্যবহার করলে ভোক্তারা প্রতারণার শিকার হতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে মোবাইল যন্ত্রাংশ দেশে প্রবেশ করলে তা বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য প্রতিযোগিতায় অসাম্য সৃষ্টি করে। অপরদিকে অবৈধ আতশবাজি সংরক্ষণ ও পরিবহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, এ ধরনের চোরাচালান দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর এবং জননিরাপত্তার জন্যও হুমকি। উদ্ধারকৃত মালামাল বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান ও টহল জোরদার থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তের দুর্গম এলাকা ব্যবহার করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পণ্য চোরাপথে আনার চেষ্টা করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মাঝে মধ্যেই এসব চালান জব্দ হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে চোরাচালান কার্যক্রম অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।











