ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেতে থাকে। খুনাখুনি, মব সৃষ্টি, গুলি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অপহরণের মতো ঘটনা জনমনে ভয় সৃষ্টি করছে। নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ১৫ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণ ও হত্যা করা এবং আরও রোমহর্ষক ঘটনার খবর সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এসব ঘটনায় নিরাপদ নন। আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে তারা হামলার শিকার হচ্ছেন। এমনকি ভোক্তা অধিকারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকেও অভিযানের সময় বাধার মুখে পড়তে দেখা গেছে।
সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে। নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদক, মব সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ বড়সড় অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। রদবদলে যোগ্য এবং দক্ষ কর্মকর্তাদের সেই অনুযায়ী পদায়ন করতে হবে। না হলে রাজনৈতিক সহিংসতা, চাঁদাবাজিসহ অপরাধ বৃদ্ধি পেতে পারে।
সাম্প্রতিক ঘটনার মধ্যে চট্টগ্রামের রাউজানে মো. মুজিব (৫৬) নামে এক বিএনপি নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নেত্রকোনায় ভারতীয় গরু চোরাচালান ও অর্থ লেনদেনের অভিযানে ছয় ডিবি পুলিশসহ সাতজন হামলার শিকার হয়েছেন। রাজধানীতে বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাদের ওপর হামলা, কুপিয়ে আহত ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া জনগণ কথায় কথায় থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়েরের চাপ তৈরি করছে।
ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ বিশেষজ্ঞ ড. ওমর ফারুক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নতুন সরকারের সামনে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জামিনে মুক্ত অপরাধী ও জেলপলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন, এবং জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ অন্যতম। পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া এবং প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, মব কালচার এবং রাজনৈতিক সহিংসতার মতো সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। নবনিযুক্ত আইজিপি রমজানে যানজট নিরসনে মাঠ পর্যায়ে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের জন্য এলাকায় কমিটি গঠন করা হবে। মাদক ও সন্ত্রাস দমন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।











