পবিত্র কোরআনুল কারিমে দুনিয়া ও আখিরাতের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের পার্থক্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সুরা বনি ইসরাঈলের ২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মানুষের প্রতি দুনিয়ায় প্রদত্ত ভিন্ন ভিন্ন মর্যাদা ও অবস্থানের কথা উল্লেখ করে আখিরাতের শ্রেষ্ঠত্বকে অধিকতর মহান ও স্থায়ী বলে ঘোষণা করেছেন।
আয়াতে আল্লাহ বলেন, “লক্ষ করুন, আমরা কিভাবে একদলকে অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। আর আখিরাত তো মর্যাদায় আরও মহত্তর এবং শ্রেষ্ঠত্বে আরও বড়।” এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ বলেন, দুনিয়াতে মানুষকে ধনী-গরিব, শক্তিশালী-দুর্বল, সুস্থ-অসুস্থ, সুন্দর-কুৎসিত—এভাবে বিভিন্ন অবস্থায় সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব পার্থক্য আল্লাহর ইচ্ছাতেই সংঘটিত হয় এবং এর পূর্ণ রহস্য মানুষের বোধগম্যের বাইরে।
তাফসিরে বলা হয়েছে, দুনিয়ার এই বৈষম্য ক্ষণস্থায়ী। প্রকৃত ও স্থায়ী শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হবে আখিরাতে। সেখানে ঈমানদারদের জন্য থাকবে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা ও অফুরন্ত নেয়ামত, আর অবিশ্বাসীদের জন্য থাকবে জাহান্নামের বিভিন্ন স্তরের শাস্তি। জান্নাতের স্তরসমূহের মধ্যেও মর্যাদাগত পার্থক্য থাকবে, যা আসমান ও জমিনের দূরত্বের মতো বিশাল বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
মুফাসসির ইবন কাসীর (রহ.)-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়, জান্নাতের উচ্চ স্তরের বাসিন্দারা ইল্লিয়্যীনবাসীদের এমনভাবে দেখবেন, যেমন মানুষ আকাশের প্রান্তে দূরের কোনো উজ্জ্বল নক্ষত্র দেখে। এভাবেই কোরআন মানুষকে দুনিয়ার সাময়িক মর্যাদায় মোহগ্রস্ত না হয়ে আখিরাতের স্থায়ী সফলতার দিকে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানায়।











