বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৭০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৯৯ দশমিক ৯৩ ডলারে দাঁড়ায়। লেনদেনের এক পর্যায়ে দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৭০১ দশমিক ২৩ ডলারে পৌঁছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য স্বর্ণের ফিউচার ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭০৬ দশমিক ৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। একই সময়ে স্পট সিলভারের দাম প্রতি আউন্স ৯৪ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়ালেও সেশনের শুরুতে রুপার দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ ৯৪ দশমিক ৭২ ডলারে উঠেছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে স্বর্ণ ও রুপার মতো নিরাপদ বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলেছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা এবং সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা মূল্যবান ধাতুর বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার নীতিগত অবস্থান স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
বিশ্লেষকদের আরও ধারণা, ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদনীতি নিয়েও বাজারে উদ্বেগ রয়েছে। সাধারণত কম সুদের হার ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে স্বর্ণের মতো অ-ফলনশীল সম্পদের চাহিদা বেড়ে যায়।
অন্যদিকে, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৩৫৫ দশমিক ৬০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৮২৮ দশমিক ৫৮ ডলারে।











