ফেনীতে পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রী ও তার বান্ধবীকে কুপিয়ে কবজি বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সুজনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের আদালতপাড়া আজমীরি বেগম সড়কের ‘নুরজাহান মঞ্জিল’ নামক ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ অভিযুক্ত সুজনকে আটক করেছে। তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া এলাকার মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে এবং পেশায় একজন সিএনজি অটোরিকশাচালক।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ফেনী শহরের হাজারী রোডস্থ ওয়াতান ল্যাবে কর্মরত ফিরোজা আক্তার (২৩) ও তার বান্ধবী আফসানা আক্তার (৩০) ওই বাসায় একত্রে ভাড়া থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে ফিরোজার সঙ্গে তার স্বামী সুজনের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় সুজন কুমিল্লা থেকে এসে হঠাৎ বাসায় ঢুকে ফিরোজাকে ধারালো রামদা দিয়ে কোপাতে শুরু করেন।
ফিরোজার চিৎকার শুনে বান্ধবী আফসানা এগিয়ে এলে সুজন তাকেও কোপাতে থাকেন। এতে আফসানার বাম হাতের কবজি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ফিরোজার বাম হাতের চারটি আঙুল শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়।
আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে সুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে গুরুতর আহত দুজনকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ফেনী মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল অভিযুক্ত সুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঝোপের আড়াল থেকে হামলায় ব্যবহৃত রক্তমাখা রামদাটি উদ্ধার করেছে।
ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন স্বীকার করেছে যে, দাম্পত্য কলহ ও স্ত্রীর পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই তিনি এই হামলা চালিয়েছেন।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।











