কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত ৫৬-তে বলা হয়েছে:
“বলুন, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে উপাস্য মনে কর, তাদেরকে আহবান কর; করলে দেখবে তোমাদের দুঃখ-দৈন্য দূর করবার অথবা পরিবর্তন করবার শক্তি তাদের নেই।”
এই আয়াত থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়। প্রথমত, দোয়া ও আহ্বান ইবাদতের অংশ। কোরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, “দোয়া করাও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত” এবং হাদিসে এসেছে, “الدعاء هو العبادة” (দোয়া-ই হলো ইবাদত)। তাই কারো কাছে অতিপ্রাকৃত সাহায্য চাওয়া বা বিপদ মোচনের জন্য আহ্বান করা, যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে হয়, তবে তা শির্কে পরিণত হয়।
দ্বিতীয়ত, গায়রুল্লাহর অসহায়ত্ব। আল্লাহ ছাড়া কেউ ক্ষতি দূর বা পরিস্থিতি পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে না। যেমন সুরা ইউনুস, আয়াত ১০৭-এ বলা হয়েছে, “যদি আল্লাহ কোনো কষ্ট দেন, তা দূর করার ক্ষমতা শুধু তাঁরই।” ইমাম ইবন কাসীর (রহ.) ব্যাখ্যা করেছেন, মুশরিকরা যাদের আহ্বান করত—মূর্তি, ফেরেশতা বা নেককার বান্দা—তাদের নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই।
তৃতীয়ত, শির্ক ও বিশ্বাসগত ভ্রান্তি। মানুষ যদি মনে করে যে কোনো পীর, ওলি বা শক্তি তার ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে, তা তাওহিদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী ক্ষমতার উৎস একমাত্র আল্লাহ। কেউ উপকার করে, তা আল্লাহর ইচ্ছা ও অনুমতিতেই হয়। মাধ্যমকে চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী মনে করা ভ্রান্তি।
যথাযথ প্রাকৃতিক উপায় যেমন চিকিৎসক বা বন্ধুর সাহায্য চাওয়া বৈধ। কিন্তু অদৃশ্যভাবে ভাগ্য পরিবর্তন, গুনাহ মাফ, সন্তান দান বা রোগ সারানোর জন্য সরাসরি গায়রুল্লাহকে আহ্বান করা গ্রহণযোগ্য নয়।
এই আয়াত মানুষকে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানায়। বিপদে আমরা কাকে ডাকি? অন্তরের গভীরে কার উপর নির্ভর করি? সৃষ্টিকর্তা, জীবন-মৃত্যুর মালিক, বিপদে উদ্ধারকারীর প্রতি আস্থা রাখাই সঠিক ইবাদত। এটি শুধুমাত্র মুশরিকদের জন্য নয়, বরং প্রত্যেক যুগের মানুষের জন্য তাওহিদের জাগ্রত আহ্বান।











