ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে অন্য এক হাজতির জামিনের কাগজ ব্যবহার করে কৌশলে পালিয়ে গেছে হৃদয় মিয়া (২৮) নামে এক হত্যা মামলার আসামি। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছয় কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ হাজতি ও দুই কয়েদির বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পলাতক আসামি হৃদয় মিয়া জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ি মধ্যপাড়ার মুজিবুর মিয়ার ছেলে। গত মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে যান।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা উপ-মহাপরিদর্শকের পক্ষে সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরিত আদেশে এক হাজতির পরিবর্তে অন্য হাজতিকে ভুলভাবে মুক্তি দেওয়ার অভিযোগে ছয়জন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্তকৃত কারারক্ষীরা হলেন— মো. মোরশেদ আলম, ফটক কারারক্ষী মো. হানিফ, মুক্তি শাখার কারারক্ষী মো. সাহাব উদ্দিন, ভর্তি শাখার ইনচার্জ ও কারারক্ষী রবিউল আলম, কারাভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা শাখার কারারক্ষী মো. জাহিদ হাসান এবং আইসিটি শাখার কারারক্ষী মো. আবু খায়ের।
ঘটনার বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার জেলা কারা সুপার ওবায়দুর রহমান লিখিতভাবে নবীনগর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতকে অবহিত করেন। একই দিন জেলা প্রশাসনের পক্ষে মনজুরুল আলম সদর থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন— পলাতক হাজতি হৃদয় মিয়া (২৮), নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগরের হাজতি দিদার হোসেন (২৮), একই উপজেলার নান্দুরা পূর্বপাড়ার হাজতি বিল্লাল মিয়া (২২), সদর উপজেলার পাঘাচং এলাকার কয়েদি মো. পলাশ হোসেন (২৫), কসবা উপজেলার কোন্নাবাড়ির কয়েদি আক্তার হোসেন ওরফে ছোটন (৩০), সিলেটের মোগলাবাজার থানার সুলতানপুর এলাকার হাজতি শিপন মিয়া (৪৫) এবং কসবা উপজেলার সোনারগাঁও এলাকার হাজতি মনির হোসেন (৫৫)। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫–৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২ নম্বর আসামি হাজতি দিদার হোসেন ২০১৬ সালের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ১৫১ ধারায় কারাগারে পাঠানো হয়। ওই মামলায় তার জামিননামা গত ২৯ ডিসেম্বর কারাগারে পৌঁছায়। ২৯ জানুয়ারি দুপুর ১১টা ৫২ মিনিটে জামিনে মুক্তির সময় হৃদয় মিয়া নিজেকে দিদার হোসেন পরিচয় দিয়ে মুক্তি নেওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় হৃদয় কৌশলে দিদার হোসেনের কেস হিস্ট্রি টিকিট থেকে ছবি সরিয়ে ফেলে এবং ছবি হারিয়ে গেছে বলে দাবি করে। কারারক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে সে দিদারের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে। মামলার কাগজে ছবি না থাকায় উপস্থিত অন্যান্য হাজতি ও কয়েদিরা তাকে জামিনপ্রাপ্ত দিদার হোসেন হিসেবে শনাক্ত করে। ফলে কর্তব্যরত কারারক্ষীরা তাকে মুক্তি দেন।
পরে হাজতিদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে, পারস্পরিক যোগসাজশ ও অনৈতিক লাভের আশায় পরিকল্পিতভাবে হৃদয়কে প্রতারণার মাধ্যমে পালাতে সহায়তা করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া বলেন, অন্য এক আসামির জামিনের কাগজ ব্যবহার করে হত্যা মামলার আসামি পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে ছয় কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, ঘটনাটি সত্য। প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাই আলাদা তদন্ত কমিটি গঠনের প্রয়োজন হয়নি











