ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে অগ্রগতির অংশ হিসেবে প্রধান আসামি করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফয়সাল করিম মাসুদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত রুবেল আহমেদকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রুকনুজ্জামান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রোর (পূর্ব) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা আদালতে রুবেলকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বলেন, আগের ছয় দিনের রিমান্ডে আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই ও মামলার গভীরতা অনুধাবনের জন্য আরও রিমান্ড প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন। তিনি আদালতে বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ড কোনো হঠাৎ ঘটনা নয়; এটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে। রুবেল এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামি। তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়া গেলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে আরও রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামি রুবেল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, মামলায় যে কামরুজ্জামান রুবেলের কথা বলা হচ্ছে, তিনি সেই ব্যক্তি নন। তিনি একটি চাকরি করেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। আদাবরে বাসা থাকার কারণে ভুলভাবে তাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এর জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, অভিযুক্ত রুবেলই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং তিনি হাদি হত্যার মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। আগের ছয় দিনের রিমান্ডে তিনি বিষয়টি স্বীকারও করেছেন।
সব পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত রুবেলকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরদিন ২২ জানুয়ারি আদালত তাকে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।











