ময়মনসিংহের ভালুকায় নিজ বসতঘর থেকে রাহিমা নামে এক গৃহবধূর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের গাংগাটিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত রাহিমা (৩৫) ওই এলাকার বিল্লালের স্ত্রী। বিল্লাল পেশায় লেপ-তোষকের ব্যবসায়ী। দম্পতির একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রাহিমা স্বামীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাজার করে বাড়িতে ফেরেন। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ছেলে রাহাত (৭) ও মেয়ে সুমাইয়াকে (১৫) খাওয়ানোর পর পাশের কক্ষে শুইয়ে দেন। প্রতিদিনের মতো স্বামী রাতে দেরিতে বাড়ি ফেরেন—এ কারণে তিনি ঘরের দরজা লক না করেই নিজ কক্ষে শুয়ে পড়েন।
রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাহিমার গলা কেটে হত্যা করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর মরদেহ সরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এ সময় বারান্দায় রাখা একটি সেলাই মেশিনে ধাক্কা লাগলে শব্দ হয়।
শব্দ শুনে নিহতের মেয়ে ঘর থেকে বের হয়ে মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এসে গলা কাটা অবস্থায় মরদেহ দেখতে পান। পরে ফোনে নিহতের স্বামীকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।











