ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী আবু সুফিয়ান (১৯) হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
গতকাল সোমবার রাতে ভৈরব পৌরসভা এলাকা থেকে বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। হত্যার সময় ব্যবহৃত একটি ছুরি ও ভুক্তভোগীর লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন সুজন (২০), সায়েম (২৬), দানিয়েল (২৪), আলমগীর (৩২), রনি (২৬) ও পাপ্পু (১৪)। তারা সবাই ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি রাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব পাশে রেললাইনের ওপর থেকে আবু সুফিয়ানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত যুবক বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে এগারো সিন্দুরগামী ট্রেনে ভৈরব স্টেশনে পৌঁছান। ট্রেন থেকে নেমে পূর্ব দিকে রেললাইন ধরে যাওয়ার সময় ওত পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা তার পথরোধ করে। তারা তার মানিব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তার ট্রাভেল ব্যাগ, মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
ঢাকা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেখানো ও শনাক্ত মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং ভিকটিমের লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার পেছনে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্য ছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।’
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।











