রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৈঠকে প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্দ্রেই বেলুসভ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রায় ১৩,০০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম একটি নতুন আন্তমহাদেশীয় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) তৈরির পরিকল্পনা করছে। এছাড়া তারা নতুন কৌশলগত সাবমেরিন নির্মাণ ও নিষ্ক্রিয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে।
বেলুসভ আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে, যার ফলে জার্মানি থেকে মধ্য রাশিয়া পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্রের উড্ডয়ন সময় হবে মাত্র ৬ থেকে ৭ মিনিট।
রাশিয়ার প্রধান সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র “নতুন পারমাণবিক পরীক্ষা” পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অপরদিকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সের্গেই নারিশকিন অভিযোগ করেন, মস্কোর অনুরোধের পরও ওয়াশিংটন এই বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট জবাব দেয়নি।
বেলুসভ দাবি করেন, অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্র একটি “প্রতিরোধমূলক পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অনুশীলন” চালিয়েছে, যা রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য “গুরুতর হুমকি”।
এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট পুতিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে যৌথভাবে পারমাণবিক পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রস্তুতি নিয়ে সমন্বিত প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন,
“যদি যুক্তরাষ্ট্র বা পারমাণবিক অস্ত্র নিষেধ চুক্তির (CTBT) অন্য স্বাক্ষরকারীরা পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়, রাশিয়া তার উপযুক্ত জবাব দেবে।”
📍সূত্র: Reuters











