ইসলাম ইবাদত-বন্দেগিসহ সব বিধানেই সহজ ও সাদাসিধা নীতি রেখেছে। নামাজ, রোজা, হজ-জাকাতের সময়, কিবলা নির্ণয়, চাঁদ দেখা ইত্যাদি মূলত প্রত্যক্ষ দর্শনের ওপর নির্ভরশীল। যেখানে মুশাহাদা সম্ভব নয়, সেখানে হিসাব বা ধারণার ওপর বিধান পালনের সুযোগ রয়েছে।
রোজা শুরু হয় সুবহে সাদিকের সময় থেকে, যা সাহরির শেষ মুহূর্ত। সুবহে সাদিক সূর্যোদয়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে পূর্বাকাশে ক্ষীণ সাদা আভা দেখা গেলে শুরু হয়। এটি ফজরের নামাজেরও সময়।
রোজার ইফতারের সময় সূর্যাস্তে নির্ধারিত, অর্থাৎ সূর্য পশ্চিম দিগন্তের নিচে চলে গেলে। এটি মাগরিবের নামাজের সময়ও। এই সময়সীমা ব্যতিক্রম করা যাবে না।
সাহরি শেষ মুহূর্তে খাওয়া মুস্তাহাব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শেষ সময়ে সাহরি খাওয়া সুন্নাহ। তবে সুবহে সাদিকের আগে অবশ্যই পানাহার বন্ধ করতে হবে। আজান শেষ হওয়ার পর খেলে রোজা শুদ্ধ হবে না।
সাহরি ও ইফতারের ক্যালেন্ডার সাধারণত সাহরির শেষ সময়ের দুই-তিন মিনিট পরে ফজরের আজান দেয়, যা সতর্কতার জন্য। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা সুন্নাহ এবং তা দেরি না করা উত্তম। উচ্চতাভেদে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের পার্থক্য ছোট হলেও পাহাড় বা উঁচু জায়গায় কিছু সময় অতিরিক্ত ধরে নেওয়া হয়।
উচ্চতা অনুযায়ী সময়ের পার্থক্য:
-
৫০ ফুট: ৩৫ সেকেন্ড
-
১০০ ফুট: ৫০ সেকেন্ড
-
২০০ ফুট: ১ মিনিট ১০ সেকেন্ড
-
৫০০ ফুট: ১ মিনিট ৫০ সেকেন্ড
-
১০০০ ফুট: ২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড
-
২০০০ ফুট: ৩ মিনিট ৪০ সেকেন্ড
-
৫০০০ ফুট: ৫ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড
বাংলাদেশে সাধারণত এত উঁচু বিল্ডিং নেই। তবে উচ্চতার পার্থক্য ইফতার নির্ধারণে বিবেচনায় রাখা জরুরি।











