পবিত্র কোরআন শুধুমাত্র একটি ধর্মগ্রন্থ নয়; এটি মুমিনের জীবনবিধান, হৃদয়ের প্রশান্তি এবং আখিরাতের মুক্তির পথনির্দেশ। কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু অর্থ বোঝার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিলাওয়াতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। মহান আল্লাহ নিজেই এই কিতাবকে বরকতময় করেছেন, আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে শিখিয়েছেন—কোরআনের প্রতিটি অক্ষরই সওয়াবের ভাণ্ডার।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
عَنْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لاَ أَقُولُ الم حَرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلاَمٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ "
অর্থাৎ, আল্লাহর কিতাবের প্রতিটি হরফ পাঠ করলেই এর জন্য দশ গুণ সওয়াব রয়েছে। আলিফ আলাদা, লাম আলাদা, মীম আলাদা—প্রতিটি হরফ আল্লাহর কাছে আলাদা পুরস্কারের কারণ।
রমজানুল মোবারক কোরআনের মাস। সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৫ অনুযায়ী:
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ
রমজানে সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে সালেহীন কোরআন তিলাওয়াতে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন; কেউ কেউ একাধিকবার খতম করতেন। কারণ এই মাসে নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
রমজান মানুষকে তাকওয়ার পথে পরিচালিত করে, আর কোরআন সেই তাকওয়ার দিশারি। রোজা দেহকে সংযত করে, কোরআন আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। রোজা আল্লাহর ভয় শেখায়, কোরআন আল্লাহর পরিচয় করিয়ে দেয়। তাই রমজান ও কোরআন পরিপূরক—একটি প্রস্তুতি, অন্যটি প্রেরণা; একটি সংযম, অন্যটি আলোকিত দিকনির্দেশ।
এই হাদিস মনে করিয়ে দেয়, কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য বড় আলেম হওয়া শর্ত নয়। আন্তরিকতা নিয়েও প্রতিটি অক্ষর আল্লাহর কাছে মূল্যবান। বিশেষ করে রমজান মাসে কোরআন তিলাওয়াতকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করা আত্মিক উন্নতির শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।











