আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি এই প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশনের কাঠামো ও কার্যক্রমের খসড়া তৈরি করেছে। জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর পুলিশ কমিশন গঠনের বিষয়ে এই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
কমিশনের প্রস্তাবিত কাঠামো ও সদস্যবৃন্দ
খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশনের কাঠামো হবে নিম্নরূপ:
চেয়ারপারসন: সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতির সমপদমর্যাদার হবেন।
সদস্যবৃন্দ:
একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ।
গ্রেড-২ পদমর্যাদার নিচে নন এমন একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।
অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নন এমন একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ একাডেমির একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
কমিশনকে কার্যকরী করার জন্য খসড়া অধ্যাদেশে নির্দেশ বা সুপারিশ প্রতিপালনের বিষয়ে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে:
বাধ্যতামূলক প্রতিপালন: কমিশন কোনো কর্তৃপক্ষ বা সত্তাকে কোনো নির্দেশ দিলে তা অনধিক তিন মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করে কমিশনকে অবহিত করতে হবে।
পুনর্বিবেচনা: নির্দেশ বা সুপারিশ বাস্তবায়নে অসুবিধা হলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তিন মাসের মধ্যে কমিশনকে জানাতে বাধ্য থাকবে। কমিশন পুনর্বিবেচনা করে নতুন যে নির্দেশ দেবে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।
সদস্য নিয়োগের বাছাই কমিটি
কমিশনের সদস্য পদে নিয়োগের সুপারিশ প্রদানের জন্য সাত সদস্যের সমন্বয়ে একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটিতে থাকবেন:
প্রধান বিচারপতির মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মনোনীত সরকারদলীয় একজন এবং বিরোধীদলীয় একজন সংসদ সদস্য।
বাছাই প্রক্রিয়া শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
কমিশন পুলিশি কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। তবে পুলিশের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি আগের মতোই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে। কমিশন শুধু এ-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করবে।
আইন ও অপরাধবিজ্ঞান বিষয়ের একজন কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক।
১৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন মানবাধিকারকর্মী।
পদমর্যাদা: কমিশনের সদস্যগণ হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতির সমপদমর্যাদার হবেন।
কার্যকাল: সদস্যরা যোগদানের দিন থেকে চার বছর মেয়াদে থাকবেন এবং মেয়াদ শেষে পুনরায় নিয়োগের যোগ্য হবেন না।











